যে বিষয় আজও আমাকে ভাবায়

যে বিষয় আজও আমাকে ভাবায়
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৬, ২৩:১৩:৪৮
যে বিষয় আজও আমাকে ভাবায়
সালেহীন রেজা
প্রিন্ট অ-অ+
ইতিহাসের একজন ছাত্র হিসেবে একটি বিষয় আমাকে ভাবায়। ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইনে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের অংশ না হয়ে ভারতের সাথে যুক্ত হতো তবে কি আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পেতাম? 
 
পলাশীর অম্রকাণনে বাংলার স্বাধীনতা অস্ত যাবার পর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বাংলাকে আবার স্বাধীন হবার স্বপ্ন দেখায়। যদিও তখন বাংলার সাথে আসাম যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে হিন্দু সমাজের আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। 
 
১৯০৬ সালে মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। ফলে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সর্বভারতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য হ্রাস পায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা শুরু হয়। ১৯১৬ সালে লখনৌ চুক্তি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মুসলিম লীগের খিলাফত আন্দোলন ও কংগ্রেসের তথা মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সম্মিলিত সভা-সমাবেশ হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ে উঠেছিল। কিন্তু তা ব্রিটিশ সরকার ও কট্টরপন্হী নেতাদের কারণে দৃঢ় হয়নি।
 
১৯২৩ সালে স্বরাজ পার্টি গঠন করে সি.আর দাস বাংলায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু তা দীর্ঘস্হায়ী হয়নি । ১৯৩৬ সালের পর মুসলিম লীগকে বাদ দিয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির দুইবার মন্ত্রিসভা গঠন ও ১৯৪০ সালের লাহোরে প্রস্তাব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু বাংলার মুসলমানরা তা বেশিদিন গ্রহণ না করে ১৯৪৩ সালে মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিন ও ১৯৪৬ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ক্ষমতায় আনেন।
 
পরবর্তীতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দিল্লির এক কনভেনশনে দুই বাংলাকে একত্রিত করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দানি জানান। ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদীয়মান নেতা হিসেবে সার্বক্ষণিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজেকে মুজিব ভাই হিসেবে পরিচিত করে তোলেন। 
 
পরবর্তীতে সিমলা কনফারেন্সের মাধ্যমে সমগ্র ভারতে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ক্ষমতার সম বণ্টন-ভিত্তিক প্রস্তাব যখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছিল, তখনই ১৯৪৭ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সংগঠিত হয়। ফলে ব্রিটিশ সরকার তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলার পূর্ব অংশকে ১৪০০ মাইল দূরের পাকিস্তানের অংশ করে গঠিত হয় ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটো স্বাধীন রাষ্ট্র। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ থেকে যায় পরাধীন।
 
পরবর্তীতে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান দুঃশাসন চালাতে থাকে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা করেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
 
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪এর  যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৫৮ এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২ এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন ও ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মুক্তিকামী জনগণের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে এবং ভারত, রাশিয়া ও প্রগতিশীল বিশ্বের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
 
১৯৪৭ সালে যদি আজকের বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ না হয়ে ভারতের সাথে যুক্ত হতো তাহলে আমরা হয়তো স্বাধীনতার স্বাদ পেতাম না; বরং ভারতের রাজ্য হিসেবেই থাকতে হতো। আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও হয়তো পাকিস্তানের নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিতে পারতেন না। 
 
লেখক : সহ-সম্পাদক, কেন্দ্রীয় উপ কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
 
বিবার্তা/কাফী
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com