বাজেট নিয়ে ভাবনা

বাজেট নিয়ে ভাবনা
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৬, ১৭:৩৯:৩০
বাজেট নিয়ে ভাবনা
প্রিন্ট অ-অ+
বাজেট ঘোষিত হয়েছে। এবার বাজেটের ভালো-মন্দ নানা দিক নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পালা। অবশ্য বাজেট ঘোষণার পরদিন শুক্রবার জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রধান শিরোনামেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের রেখাচিত্র ফুটে ওঠেছে। কেউ লিখেছে, চমক নেই নতুন বাজেটে, কারো বা অভিমত, আয়সন্ধানী বাজেট, কারো মতে আকাঙ্ক্ষা বিপুল সামর্থ্য কম ইত্যাদি। 
 
এসব মত-অভিমতের পক্ষে নিশ্চয় যুক্তি আছে। আবার চাইলে পাল্টা যুক্তিও যে দেয়া যাবে না, তা নয়। তা যদি দেয়া না-ই যেত, তাহলে বিজ্ঞ অর্থমন্ত্রী এসব ব্যবস্থা নিশ্চয়ই নিতেন না। 
 
আমরা কোনো যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে না গিয়েই বলতে চাই, বাজেট কোনো আলাদীনের জাদুর চেরাগ নয় যে, এটা দিয়ে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে। এমন কোনো অলৌকিক বস্তুও নয় যে, সবাইকে খুশি করতে পারবে। বাজেটে যেসব ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো কাউকে সন্তুষ্ট করবে, কাউকে নারাজ। 
 
কাজেই বাজেটের ভালোমন্দের আলোচনা অনিঃশেষ। আমরা ওই দুর্গম পথে পা না বাড়িয়ে এবারের বাজেটের দু’-একটি বিষয় নিয়েই কথা বলতে চাই। 
 
প্রস্তাবিত বাজেটে সবচাইতে দৃষ্টি আকর্ষণকারী প্রস্তাবটি হচ্ছে ১৪২ তলাবিশিষ্ট আইকনিক টাওয়ার গড়ার পরিকল্পনা। রাজধানীর পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকা নিয়ে এটি হবে মূলত আরেকটি নতুন ঢাকা। ৭০ একর জমির ওপর এ মহানগর প্রতিষ্ঠার জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। 
 
জনসংখ্যার ভারে ঢাকা যখন ন্যুব্জপ্রায়, তখন রাজধানীর কাছেই এ ধরনের একটি প্রকল্পের সম্ভাবনা আমাদের আনন্দিত ও স্বপ্নপ্রবণ করে। এই প্রকল্পটির বাস্তবোচিত স্বপ্ন দেখানোর জন্য অর্থমন্ত্রীকে টুপিখোলা অভিবাদন!
 
প্রস্তাবিত বাজেটে পেনশনব্যবস্থায় দুটি পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।  একটি হচ্ছে, বেসরকারি কর্মজীবীদের পেনশনের আওতায় আনা এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ‘ভবিষ্যতে যোগদানকারী সব সরকারি চাকুরিজীবীর জন্য অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পেনশন চালু।’ প্রথম প্রস্তাবনাটি নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু দ্বিতীয় পদ্ধতিটি নিয়ে আরো চিন্তাভাবনার অবকাশ আছে বলে আমরা মনে করি। নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পেনশন পদ্ধতি কতটুকু আঘাত পাবে  এবং সে আঘাতের ফল কী হতে পারে, তা নিয়ে আরো ভাবতে হবে। এতো দিনের পুরোনো একটা ব্যবস্থা হুট করে বদলে ফেলাটা নিশ্চয়ই বাঞ্ছনীয় নয়। 
 
বাজেটের একটা বিষয় নিয়ে আমরা ভিন্নমত প্রকাশ করতে চাই। তা হলো চাল আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ। বলা হচ্ছে, কৃষকের স্বার্থে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ দেশীয় চালের উচ্চমূল্য বজায় থাকলে কৃষক লাভবান হবে। 
 
তত্ত্ব হিসেবে খুবই সুন্দর, কিন্তু বাস্তবতায় একটুখানি ফাঁক আছে। বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে এখনো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ধানের আবাদ হয় না। এখানে কৃষক আবাদ করেন প্রধানত নিজের অর্থাৎ পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোর জন্য। এর বাইরে উদ্বৃত্ত যা থাকে, তা বিক্রি করে সংসারের অন্য প্রয়োজন মেটান। তার অর্থ এই নয় যে, ওই উদ্বৃত্ত ধান-চাল বিক্রিই কৃষকের আয়ের একমাত্র উৎস। কৃষক এর বাইরেও অন্য অনেক কিছু করে থাকেন। কাজেই ধান-চালের দাম বাড়লে বা কমলে কৃষকের যে সবসময় লাভ বা লোকসান হয় তা’ নয়। যে- কৃষকের উদ্বৃত্ত ধান আছে, দাম বাড়লে তার লাভ। যে কৃষকের উৎপাদনঘাটতি, তার বেলায়?
 
অতএব, ধান-চালের মূল্যবৃদ্ধি মানেই কৃষকের লাভবান হওয়া নয়। কোনো কৃষকের জন্য দাম বাড়লে লাভ, কারো জন্য কমলে লাভ। কৃষি ও সামাজিক বাস্তবতার এই সমীকরণটি বড়ই জটিল। কাজেই চাল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবোচিত হবে, তা আরো ভালো করেই ভেবে দেখতে বলবো আমরা। 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2019 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com