ধর্মের নামে কেন এই রক্তপাত

ধর্মের নামে কেন এই রক্তপাত
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৬, ১৫:৩৯:৩৬
ধর্মের  নামে  কেন এই রক্তপাত
প্রিন্ট অ-অ+
রাতের কালো আঁধার মুছে গিয়ে নতুন একটি ভোরের অভ্যুদয় নিঃসন্দেহে আনন্দ ও স্বস্তির বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশে একশ্রেণীর অমানুষের দৌরাত্ন্যে রাত আর দিন আজ একাকার হয়ে গেছে। কোনো অপকর্মের জন্য দুর্বৃত্তদের এখন আর অন্ধকারেরর আড়াল লাগে না। প্রকাশ্যে দিনের বেলায়, কোনো নম্র আলোর ভোরেই তারা বিনা দ্বিধায় অপকর্ম সম্পাদন করে এবং বুক ফুলিয়ে চলে যায়। প্রশ্ন হলো, এরা কারা ?
 
কথাগুলো বলা হচ্ছে চট্রগ্রামে সংঘটিত সর্বশেষ মর্মান্তিক ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে। একজন সরলসিধে শান্তিপ্রিয় গৃহবধুকে যেভাবে ছুরিকাঘাত ও গুলী করে হত্যা করা হলো, তাতে মানুষমাত্রেই স্তম্ভিত। মানুষের মনে আজ প্রশ্ন, বনজঙ্গলের সবুজ গাছপালার ভেতরে লুকিয়ে থাকে হিংস্র জানোয়ার। আমাদের এই সবুজ দেশেও কারা এই হিংস্র জানোয়ার? কোন পাশবিকতা নিরপরাধ গৃহবধুর ওপর অস্ত্র তুলতে ওদের উস্কে দিল ? 
 
বেশ কিছু দিন  থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি, একের পর এক মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ব্লগার থেকে মসজিদের ইমাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, হোমিও চিকিৎসক, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের পুরোহিত ও যাজক - কেউই ঘাতকদের কোপ থেকে  বাদ  যাচ্ছে  না। 
 
ঘটনার একদিন পরই কে  বা কারা মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠী  ইসলামিক স্টেটস বা আইএসের নামে খুনের দায়িত্বও স্বীকার করছে। একইভাবে চট্রগ্রামের গৃহবধু মাহমুদা- হত্যার দায়ও কাঁধে নেবে হয়তো ঘাতকের দল। বলবে, তার স্বামী পুলিশ অফিসার, তিনি ‘ইসলামী জেহাদীদের’ বিরুদ্ধে 
অভিযান  চালান। তাকে ধরতে পারি না, তাই  তার  স্ত্রীকে  হত্যা  করে  বদলা  নিলাম। 
 
দায়িত্ব স্বীকারকারী অদৃশ্য প্রাণীরা নিজেদের পরিচয় দেবে হয়তো আইএস বা অন্য কোনো ‘ইসলামী’ জঙ্গি দলের। বলবে, ইসলামের প্রয়োজনে এ হত্যাকাণ্ড।
 
প্রশ্ন হলো, ব্লগারদের বেলায় বলা হলো, ওরা নাস্তিক, কিন্তু পরিপূর্ণ ইসলামী পোশাকে সজ্জিতা মাহমুদার বেলায় কী বলবে ঘাতদকের দল? কোন মুখে বলবে, এ হত্যাকাণ্ড ‘ইসলামের প্রয়োজন।’
 
আমরা ভেবে পাই না, এ কোন ইসলাম? ইসলাম কি আক্রান্ত  হওয়া ব্যতিরেকে কাউকে অযথা আক্রমণ করাকে সমর্থন করে? ইসলামই কি এমনকী যুদ্ধাবস্থায়ও নারী শিশু বৃদ্ধ ও শস্যক্ষেতকে সুরক্ষা দেয়নি ?  যদি দিয়ে থাকে, তাহলে আজ দেশে ইসলামের নামে এসব কী হচ্ছে ? দুর্বৃত্ত-দুরাচাররা মানুষ খুন করছে আর দিচ্ছে ইসলামের দোহাই। এই ইসলাম  কোত্থেকে  এসেছে  আর  এর  চর্চাকারীই  বা  কারা ?
 
পুলিশজায়া  মাহমুদা খানমের রক্ত আজ এসব প্রশ্নের জবাব চায়। মাহমুদার আত্না নিশ্চয়ই শান্ত হবে সেদিন, যেদিন পবিত্র ধর্মের নাম ব্যবহারকারী দুরাত্নারা ধরা পড়বে, তাদের বিচার হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। 
 
মানবতার স্বার্থে, ধর্মের স্বার্থে মাহমুদা হত্যার বিচার হোক - এ দাবি আজ ১৬ কোটি মানুষের। আমরা নিরপরাধ মাহমুদার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। প্রার্থনা  করি, তার শোকার্ত স্বামী, দু’টি অবুঝ  শিশুসন্তান ও স্বজনদেরকে আল্লাহ এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার তৌফিক দিন। 
 
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2019 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com