প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত : ফরিদ

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত : ফরিদ
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৫, ২২:০১:৩৪
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত : ফরিদ
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+
আউটসোর্সিং কাজ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার জগতে পা রাখেন মো. ফরিদ হোসেন। অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে হাতে খড়ি ২০০৯ সালে। শুরুতে তেমন সফলতা না পেলেও পরে ওয়েব, সফটওয়ার, এসইও, অ্যাপস ডেভেলপমেন্টকে আয়ের উৎস  না ভেবে শেখা ও বোঝার উদ্দেশ্যে শুরু করেন আউটসোর্সিং কাজ। 
 
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইনফর্মেশন সিস্টেম বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন তিনি। পরে Bangladesh University of Engineering Technology (BUET)-এর IAC থেকে Web Development কোর্স সম্পন্ন করেন।  বর্তমানে তিনি এডুমেকার আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও বিবার্তাটেকের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 
 
সম্প্রতি রাজধানীর পান্থপথের এডুমেকার আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অফিসে বিবার্তা২৪.নেটের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। 
 
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিবার্তা২৪.নেটের নিজস্ব প্রতিবেদক- উজ্জ্বল এ গমেজ।
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটা বলুন।
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ    ২০০৯ আগস্টের কথা। মকবুল রহমান ছিলেন আমার শিক্ষক। ওনার মাধ্যমেই এই আউটসোর্সিং ক্যারিয়ার শুরু। তবে আমার এই ক্যারিয়ার শুরুর মূল অনুপ্রেরণার উৎস হলেন আমার আব্বা। ২০০২ সালে আমার কম্পিউটারে হাতেখড়ি। তখন আমাদের স্থানীয় একটা  প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার শিখি। আমি অনেক ফাঁকি দিতাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম। ঘুরে বেড়াতাম। এর জন্য হঠাৎ একদিন আমার আব্বা আমার ওপর রেগে যান। আমাকে মারধর করেন। তখন আমার মনে জেদ চাপে, আমি ভালভাবে কম্পিউটার শিখবো। আর আইটিতে একটা ভাল ক্যারিয়ার গড়ব। সেই জেদই আমাকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে।
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ এর আগে কি করতেন?
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ   এর আগে আমি আউটসোর্সিং কাজ করতাম না। সে সময় আমি পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। ভার্সিটির পড়াশুনার অনেক চাপ ছিল। তখন প্রোগ্রামিং কাজ করতে বেশি পছন্দ করতাম। এর ওপর আমার আগ্রহ ছিল বেশি। তাই পরে প্রোগ্রামংটাই আমি কাজ করার জন্য বেছে নেই। আউটসোর্সিং-এ আমার হাতে খড়ি। কিন্তু এখন আমি প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপিং কাজ বেশি করি।
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত : ফরিদ
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ  এত ক্যারিয়ার থাকতে সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে আয় করার বষয়টি বেছে নিলেন কেন?
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ    আইটিভিত্তিক পেশাটি একটা সময়োপযোগি ক্যারিয়ার। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির অনেক বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। ক্যারিয়ারটাকে সহজে গঠন করা যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর সম্ভাবনাও অনেক ভাল।
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ যখন আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করেন তখন আপনি মাসে কত টাকা আয় করতেন?
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ প্রথম অবস্থায় তেমন বেশি আয় হতো না। শুধু আমার নেট বিলটা ওঠে আসতো। প্রত্যেক মাসে আমার ১০-১২ হাজার টাকা আয় হতো। আউটসোর্সিং কাজ করার জন্য নিজেকে দক্ষ করতে হয়। যারা দক্ষ তারা এমনিতেই ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করেন। 
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ বর্তমানে দেশের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন।
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। কারণ এই ক্যারিয়ারটা এখন সবার চোখে পরার মতো হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮ হাজার, ১০ হাজার টাকায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এগুলো যারা পরিচালনা করছেন তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা ফ্রিল্যান্সার বিষয়ে পরিস্কার ধারণা নেই। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনরকম একটা কোর্স করেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বসে আছেন। এ্ বিষয়ে আমি বলব যে, যারা প্রশিক্ষণ নিতে যান, তারা যেন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে শুনে যান।
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং-এর সম্ভাবনা কেমন বলে আপনি মনে করেন?
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা খুবই ভাল। অন্যান্য দেশগুলোর জন্যফ্রিল্যান্সিং একটি সময়োপযোগী পেশা। এরকম উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেকার সমস্যা অনেক বেশি। দেশগুলো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও কম।  ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করার সুযোগ থাকার কারণে সারা বিশ্বের সকল জবগুলো এখন সবার জন্যউন্মুক্ত।
 
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত : ফরিদ
বিবার্তা২৪.নেটঃ আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সাফল্যের মূল কারণ কী?
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ  আমার সফলতার কারণ হলো আমি স্টাডি পাগল একজন মানুষ। যেটা জীবনের জন্য ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছিলাম আমার প্রতিজ্ঞা ছিল এর শেষ আমি দেখে ছাড়ব। আউটসোর্সিং দিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু করলেও আমি আরও বড় হবো। তাই বেশি করে স্টাডি করি আর যা কিছু শিখি দেখি সবই সফলভাবে করছি। এরপর শুধু চর্চা আর স্টাডি করতে থাকি। আমি মনে করি, কয়েকটি বিষয়ে নজর দিলে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব। যেমন নিজেকে প্রতিনিয়ত স্কীলড হিসেবে তৈরি করতে হবে। যেকোন কাজের প্রতি আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তী হতে হবে। এছাড়া বায়ারের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে কমিউনিকেশন স্কীল বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিজের মধ্যে প্রফেশনালিজম তৈরি করতে হবে। 
 
বিবার্তা২৪.নেটঃ আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সাফল্যের পেছনে কার অবদানটা বেশি বলে মনে করেন?
 
মো. ফরিদ হোসেনঃ   ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সাফল্যের পেছনে যার অবদানটা বেশি তিনি হলেন আমার শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় আপা বাণী ইয়াসমিন হাসি। যিনি এখন বিবার্তা২৪.নেটের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আসলে আমার পেশাগত জীবনের শুরু থেকে তিনি আমাকে অনেক অনুপ্রেরণ দিয়েছেন। সুন্দর গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন। এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। সব  সময়ই তিনি বলেন, নতুন কিছু তৈরির চিন্তা কর। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বলেন, বিবার্তার এসইও’র কাজটা তুমি কর।  এখান থেকেই আমার এসইও’র কাজ শুরু।
 
 
বিবার্তা/উজ্জ্ব/মহসিন
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2019 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com