‘জোট ত্যাগকারীরা দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে’

‘জোট ত্যাগকারীরা দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে’
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:৫০:০৩
‘জোট ত্যাগকারীরা দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে’
রাজকুমার নন্দী
প্রিন্ট অ-অ+

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যেতে জোট শরিকদের অনেক লোভনীয় প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে জোটের ঐক্য অটুট রেখেছেন। সুতরাং সময়ের পরীক্ষায় ২০ দলীয় জোট উত্তীর্ণ।’
 
জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রলোভনে পড়ে এখন জোট থেকে কেউ বের হয়ে গেলে তাতে জোটের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং তারা দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
 
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে নিজ কার্যালয়ে বিবার্তা২৪.নেট এর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার রাজকুমার নন্দীকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ফরহাদ।  এ সময় তিনি জোটের শরিক জামায়াতের রাজনীতি, পৌর নির্বাচন, জোটের অবস্থান, জনকল্যাণে এনপিপির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসহ সম-সাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
 
বিবার্তা২৪.নেট :  ২০ দলীয় জোট বলছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই কমিশনের অধীনে পৌরসহ কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে আপনারা পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন কেন?
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ :  নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। দেশে গণতন্ত্র নেই। ৫ জানুয়ারির একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা আন্দোলন করছি। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের কপালে যে কলঙ্কের তিলক লেগেছে, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার মধ্য দিয়ে তা থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ পাবে। এই সুযোগটা আমরা সরকারকে দিতে চাই। একইসঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার মধ্য দিয়ে ঠুটো জগন্নাথ মার্কা নির্বাচন কমিশনও তাদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের একটি সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। আশা করি, কমিশন সে সুযোগ গ্রহণ করবে।  
 
বিবার্তা২৪.নেট : নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে ২০ দলীয় জোট কি তাহলে মোটেই আশাবাদী না?
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ :  নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী হতে চাই। আমরা মনে করি, গণতন্ত্রের স্বার্থে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। কারণ, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ইমেজ কিছুটা হলেও ফিরে আসবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে ৮০ শতাংশেরও বেশি পৌরসভায় ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থিরা বিজয়ী হবে।
 
সরকার বিরোধী দলের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পৌর নির্বাচনের রায় ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে।  তবে সরকার যাতে জনরায় ছিনিয়ে নিতে না পারে সেজন্য আমাদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।
 
বিবার্তা২৪.নেট : একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের একটি ‘বিতর্কিত’ ভূমিকা ছিল।  কিন্তু দল হিসেবে জামায়াত আজ পর্যন্ত সেজন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার কিংবা কোনো ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।  এরপরেও স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে কি-না?

‘জোট ত্যাগকারীরা দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে’

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ : স্বাধীনতার পরে জামায়াত এক সময় জোটবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল, এখন বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। পার্লামেন্টে বিভিন্ন সময় তাদের প্রতিনিধিত্বও ছিল। তারা সরকারেও ছিল, বিরোধী দলেও ছিল। আর জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে হাইকোর্টের রায়ে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দল হিসেবে জামায়াত থাকবে কি থাকবে না, সেটি সরকারের ওপরই নির্ভর করবে। সরকার ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে পারে। নিষিদ্ধ করলে তো এ প্রশ্ন আসতো না। কিন্তু সরকার সেটা করছে না কেন?
 
বিবার্তা২৪.নেট :
এনপিপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল।  অন্যদিকে, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল। দু’টি দলই ২০ দলীয় জোটে রয়েছে। সেক্ষেত্রে এনপিপির আদর্শ বাস্তবায়নে জামায়াত কোনো প্রতিবন্ধকতা কি-না?
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ :  এনপিপি ও জামায়াত-দুইটি দলের আদর্শ ও দর্শন ভিন্ন। কারো সাথে কারো মিল নেই। সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে ২০ দলীয় জোট হয়েছে। আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের লক্ষ্যে এই জোট গঠিত হয়েছে। এখানে কোনো দলের আদর্শ বাস্তবায়নে অন্য কোনো দল প্রতিবন্ধক নয়। তাই এনপিপির আদর্শ বাস্তবায়নে জামায়াতও কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়।
 
বিবার্তা২৪.নেট :  কোনো দল ভেঙ্গে গেলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে যায়। সে বিবেচনায়, বিভক্ত এনপিপি দুর্বল হয়ে গেছে কি-না।
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ : আগের এনপিপির চেয়ে বর্তমান এনপিপি অনেক বেশি শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা সরকার গঠন করব। আশা করি, সে সরকারে এনপিপির প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
 
বিবার্তা২৪.নেট : নিকট ভবিষ্যতে খণ্ডিত এনপিপি একত্রিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না?
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ :  রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তবে এখন পর্যন্ত বিভক্ত এনপিপি একত্রিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।
 
বিবার্তা২৪.নেট :  জনকল্যাণে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি কী করছে এবং ভবিষ্যতে কী করতে চায়?
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ : একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য-জনগণের কল্যাণ করা।  এ কাজ ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক উদ্যোগে যতটা না করা সম্ভব, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে তার চেয়ে অনেক বেশি করা সম্ভব।  একটি দল যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে না পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারে না।
 
২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে আমরা সরকার গঠন করলে আমাদের প্রথম কাজ হবে বিচার বিভাগের পুরোপুরি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। প্রশাসনকে স্বতন্ত্র করা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ করা হবে। এছাড়া কৃষকসহ জনগণের কল্যাণে কাজ করব। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থেকে এসব কাজ করা সম্ভব নয়। বিরোধী দলে থেকে জনকল্যাণে যতটুকু কাজ করা যায়, আমরা তা করছি।
 
বিবার্তা২৪.নেট :  বিএনপি জোট গঠিত হওয়ার পর থেকেই তা ভাঙার গুঞ্জন রয়েছে। মাঝে মাঝে এই গুঞ্জন প্রবল হয়, আবার কখনো কিছুটা স্তিমিত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গুঞ্জন আবার প্রকট হয়ে সামনে চলে এসেছে। আসলে ২০ দলীয় জোট ভেঙ্গে যাচ্ছে কি-না?
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ : আপনি ঠিক-ই বলেছেন, ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল জোট গঠনের পর থেকেই গুঞ্জন রয়েছে, জোট ভেঙ্গে যাচ্ছে। জোটের বয়স এখন সাড়ে তিন বছরেরও বেশি। কিন্তু জোট এখনো অটুট রয়েছে। তবে জোট ভাঙতে সরকার শুরু থেকেই নানা ষড়যন্ত্র করছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে জোট ভাঙতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। নির্বাচনে যেতে জোট শরিকদের অনেক লোভনীয় প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে জোটের ঐক্য অটুট রেখেছে। সুতরাং সময়ের পরীক্ষায় ২০ দলীয় জোট উত্তীর্ণ। তবে কেউ জোট থেকে বের হয়ে গেলে তাতে জোটের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং তারা দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে।
 
জোট ভাঙার সরকারি ষড়যন্ত্র সকল সময়ই ছিল। কিন্তু সরকারের সে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জোট টিকে আছে, ভবিষ্যতেও জোটের ঐক্য অটুট থাকবে। ভবিষ্যতে আমরা জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করব। আশা করি, ওই সরকারে ২০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
 
বিবার্তা২৪.নেট : বিবার্তাকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
 
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ : আপনাকে ও বিবার্তার পাঠকদেরও ধন্যবাদ।
 
বিবার্তা/নন্দী/এমহোসেন.
 
 

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com