‘বাংলাদেশে রয়েছে অনেক প্রতিভাবান গেমার’

‘বাংলাদেশে রয়েছে অনেক প্রতিভাবান গেমার’
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০১৬, ১১:২৫:১৭
‘বাংলাদেশে রয়েছে অনেক প্রতিভাবান গেমার’
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+
তুলোশ শেখ। ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের ভাষানটেক থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে চলে যান আমেরিকা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি। বাবা-মার চাকুরির সুবাদে সেখানে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশুনা করছেন। তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি টান ছোটবেলা থেকেই। তিনি একজন তরুণ গেমার। গেম খেলতে পছন্দ করেন তিনি। তাই প্রতি বছর জানুয়ারি মাস এলেই বাংলাদেশে আসেন গেম খেলার লোভে। 
 
এবারের ‘সিটিআইটি ফেয়ার-২০১৬’ উপলক্ষে রাজধানীর আইডিবি ভবনের বিসিএস কম্পিউটার সিটির তৃতীয় তলায় গেমারদের জন্য গেম জোন তৈরি করেছিল বিখ্যাত প্রযুক্তি ব্র্র্যান্ড আসুস ও গেমিং কোম্পানি গিগাবাইট। মেলার ষষ্ঠ দিনে গেমিং জোনে গেমারদের ভিড় দেখে সেখানে গেলে কথা হয় এ প্রজন্মের তরুণ গেমার তুলোশ শেখের সাথে।
 
মেলায় গিগাবাইট প্যাভিলিয়নে বসে তিনি খোলামেলা কথা বলেন বিবার্তা২৪.নেটের নিজস্ব প্রতিবেদকের সাথে। একান্ত আলাপে তিনি বলেন তরুণ গেমার জীবনের নানান অভিজ্ঞতার কথা। গেম পাগল তুলোশের গেমিং জীবনের নানা দিক নিয়ে সাক্ষাৎকারটি  প্রস্তুত করেছেন-উজ্জ্বল এ গমেজ।
 
বিবার্তা২৪.নেট: আপনার গেমিং ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটা জানতে চাই। কখন থেকে গেম খেলতে শুরু করেন?
তুলোশ শেখ: আমার ঠিক মনে নেই কখন থেকে গেম খেলতে শুরু করি। তবে ক্লাস ফোর থেকে স্পষ্ট মনে আছে আমি বন্ধুদের বাসায় গিয়ে গেম খেলতাম। বন্ধুদের পাল্লায় পড়েই আমার গেম খেলাটা শুরু। আমার কিছু টেলেন্ট বন্ধু ছিল। ওরা প্রযুক্তি খুব ভাল জানতো ও বুঝতো। অনেক গেম জানতো। ওদের সাথে থেকে থেকেই আমার এই গেমিং জগতে আসা।
 
বিবার্তা২৪.নেট: এরপর কি আপনি কোনো শিক্ষকের কাছে গেমিং-এর জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন?
তুলোশ শেখ: প্রশিক্ষণ ঠিক না। তবে গেম খেলার কিছু কলাকৌশল শিখেছি ক্লাস ফাইবে উঠে। আমার শখ দেখে আমার আব্বা শিমুল নামের একজন স্যার রেখেছিলেন কিছু গেম শেখার জন্য।
 
বিবার্তা২৪.নেট:  আপনি কী কী গেম শিখেছিলেন?
তুলোশ শেখ: গেমিং জগতে নানান ধরণের গেম আছে। তবে জনপ্রিয় গেমগুলোর মধ্যে ‘কল অব ডুটিফোর’, সিএস গো, মরটাল কমবাট এক্স শিখেছিলাম। 
 
বিবার্তা২৪.নেট: আপনি তো বলেছেন প্রতি বছর বাংলাদেশে আসেন গেম খেলার জন্য  তো ঢাকায় কোথায় কোথায় গেমিং জোন রয়েছে?
তুলোশ শেখ: জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। আর এসব মেলায় আয়োজন করা হয় গেমিং এর ব্যবস্থা। তাই গেম খেলতেই আসা হয় দেশে বছরে একবার। রাজধানীতে যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটিসহ বিভিন্ন শপিং মলে রয়েছে এ গেমিং জোন। এছাড়া সাইবার ক্যাফেগুলোতেও রয়েছে গেম খেলার ব্যবস্থা।
‘বাংলাদেশে রয়েছে অনেক প্রতিভাবান গেমার’
বিবার্তা২৪.নেট: গেম খেলে একজন গেমার কতটাকা পায়?  
তুলোশ শেখ: বিষয়টা নির্ভর করে আপনি কি এককভাবে খেলছেন না টিমগতভাবে খেলছেন। আর দিতীয় বিষয়টা হলো আয়োজকরা কত টাকার পুরস্কারের  ব্যবস্থা রেখেছে। বাংলাদেশে গেমারদের জন্য বেশি টাকা দেয়া হয় না। এককভাবে খেলায় জিতলে ৭-১০ হাজার টাকায় দেয়া হয়। এখন একটু বেড়েছে। ১৫-২০ হাজার দেয়া হয়। কিন্তু আমেরিকা  একজন গেমারদের মাসিক বেতন ৭০ হাজার ডলার। আর কোনো টুনার্মেন্ট জিতলে দ্বিগুন বা তিনগুন বেতন পায়। বাংলাদেশে এখনও তেমনভাবে গেমারদের মূল্যায়ন করা হয় না।
 
বিবার্তা২৪.নেট: বাংলাদেশে গেমারদের সম্ভাবনা কেমন?
তুলোশ শেখ: বাংলাদেশে গেমারদের রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। দেশে অনেক ভাল ভাল গেমার আছেন। তাদের অনেক প্রতিভা আছে। কিন্তু দেশে গেম খেলার সুযোগ কম। সরকারি বা বেসরকারিভাবে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না। বিষয়টি ভাববার বিষয়। অনেক টেলেন্ট লুকিয়ে আছে দেশে। এদের একটু যত্ন করলে অনেক সম্পদ তৈরি হতো। আরেকটি বিষয় হলো বাংলাদেশে গেমিং আসর আয়োজনের কোনো স্পন্সর নেই। বাইরের দেশগুলোতে অনেক স্পন্সর এগিয়ে আসেন। সরকারিভাবে একটু পৃষ্ঠপোষকতা করলেই এই সেক্টরটার অনেক  উন্নত হতো। অনেক প্রতিভা আলোর মুখ দেখতো। 
 
বিবার্তা২৪.নেট: উন্নত বিশ্বে গেমারদের জন্য কেমন সুযোগ দেয়া হয়?
তুলোশ শেখ: মজার বিষয় হলো উন্নত বিশ্বে অনেকেই গেমারদের পাগল বলে থাকেন। কারণ গেম খেলতে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাই গেমারদের জন্য নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে তৈরি করা হয়েছে ‘দ্য আর্কেট হোটেল’ নামের বিশেষ হোটেল। শহরের দ্য পিজপ এলাকায় ৩৬ রুমের এই হোটেলটিতে প্রত্যেক রুমেই আছে গেমারদের জন্য গেমিং কেনসোলসহ সমস্ত গেমিং সুবিধা। এক সাথে অনেকজন গেমার গেম খেলতে পারবে। এছাড়াও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দেশে নানান সুবিধা। আর সরকারিভাবে একজন ভাল গেমারকে  বেতন হিসেবে বছরে ৫ লাখ ডলার দেয়া হয়। অন্যান্য সুবিধা তো রয়েছেই। 
 
বিবার্তা২৪.নেট: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য বিবার্তা২৪.নেটের পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
তুলোশ শেখ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
 
বিবার্তা/উজ্জ্বল
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com