রোজা ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ

রোজা ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৬, ০৯:৫৭:৫৮
রোজা ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+
পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। [২:১৮৩]
 
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [২:১৮৪]
 
আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে এই উম্মতের ঈমানদারগণকে উদ্দেশ্য করে আল্লহতায়ালা রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। রোজা হলো একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ও যৌনাচার হতে বিরত থাকা। এর দ্বারা আত্নার পরিশুদ্ধি ও স্বভাবের পরিমার্জনা অর্জিত হয়।আল্লাহতায়ালা এই নির্দেশের সাথে সাথে আরো বলেন-তোমাদের পুর্ববতী উম্মতগণের ওপর ও রোজা ফরজ করা হয়েছিলো।তারা তা পালন করতে যত্নবান ছিলো। 
 
আল্লাহতায়ালা অন্য আয়াতে বলেন, আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য পথ ও পদ্ধতি নির্ধারন করে দিয়েছি।যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন অবশ্যই সকলকে একই উম্মত করে দিতেন।কিন্তু তোমাদেরকে যা কিছু তিনি দিয়েছেন তা দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য। অতএব তোমরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতার সাথে অগ্রসর হও।
 
হাদীস থেকে ব্যাখ্যা: ‘গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে।’ 
 
এ নির্দেশ আসার পর সাহাবীগণের কেউ কেউ সাওম পালনে সক্ষম হওয়ার পরও তাদের কেউ কেউ সাওম ত্যাগ করে একদিনের পরিবর্তে মিসকিনকে খাওয়াতো।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে '‘আর সাওম পালন করাই তোমাদের জন্য উত্তম’ এ আয়াতটি নাযিল হয় যা পূর্বের হুকুমকে রহিত করে এবং সবাইকে সাওম পালনেরই নির্দেশ দেয়া হয়। [রেফারেন্সঃ বুখারী, হাদিস নং: ১২৮১]
 
রোজার কতিপয় প্রয়োজনীয় মাসয়ালা: ১. অপবিত্র অবস্থায় রোজার নিয়ত করা জায়েয তবে ফজর হলে গোসল করবে। 
 
২. কোন মহিলা যদি রমজানে ফজরের পূর্বে মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান প্রসবজনিত স্রাব হতে পবিত্র হয় তবে সে ফজরের পূর্বে গোসল না করলেও তার প্রতি রোজা রাখা ফরজ। তারপর ফজরে গোসল করে নিবে। 
 
৩. রোজা অবস্থায় দাঁত উঠানো, জখমে ঔষধ লাগানো চোখে বা কানে ঔষধের ফোঁটা নিক্ষেপ জায়েজ, যদিও চোখে বা কানে ফোঁটা প্রয়োগের ফলে গলায় ওষুধের স্বাদ অনুভূত হয়। 
 
৪. রোজা অবস্থায় দিনের প্রথমভাগে ও শেষ ভাগে মিসওয়াক করা জায়েজ বরং অন্যের মত তার জন্যেও এ অবস্থায় সুন্নাত। 
 
৫. রোজাদার গরম ও পিপাসার তীব্রতা কমানোর জন্য পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা অন্য কিছুর মাধ্যমে ঠাণ্ডা গ্রহণ করা বৈধ। 
 
৬. প্রেসার বা অন্য কোন কারণে শ্বাস কষ্ট হলে রোজা অবস্থায় মুখে স্প্রে করা জায়েজ। 
 
৭. রোজাদারের ঠোঁট শুকিয়ে গেলে পানি দ্বারা ভিজান এবং মুখ শুকিয়ে গেলে গড় গড়া করা ছাড়া কুলি করা বৈধ। 
 
৮. ফজরের সামান্য পূর্বে অর্থাৎ দেরি করে সেহরি খাওয়া এবং সূর্যাস্তের পর তাড়াতাড়ি ইফতার করা সুন্নাত। রোজাদার ইফতারের জন্য খেজুর, শুকনা খেজুর, পানি, যে কোন হালাল খাবার যথাক্রমে প্রথম থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করবে। আর যদি ইফতারের জন্য কিছুই না পাওয়া যায়, তবে কোন খাবার পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মনে মনে ইফতারের নিয়ত করে নিবে। 
 
৯. রোজাদারের উচিত সৎকর্ম বেশি বেশি করা এবং সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা। 
 
১০. রোযাদারের ফরজ কাজ সমূহ নিয়মিত আঞ্জাম দেয়া এবং সকল হারাম থেকে দূরে থাকা একান্ত কর্তব্য; অতএব, পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময় মত এবং যদি সে জামায়াতে নামাজ আদায়ের ওজরবিহীন লোক হয় তবে জামায়াতের সাথে আদায় করবে এবং মিথ্যা কথা, পরনিন্দা, ধোঁকাবাজি, সুদী লেনদেন করা ও সকল হারাম কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে।
 
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, অনুরূপ আচরণ ও জাহেলিয়াত বর্জন না করে, তবে তার পানাহার বর্জনের আল্লাহর কোনই প্রয়োজন নেই। (বুখারী)
 
বিবার্তা/জিয়া
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com