লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, পবিত্র হজ আজ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, পবিত্র হজ আজ
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৮:৩০:০৯
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, পবিত্র হজ আজ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+
‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক- ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ এই ধ্বনিতে আজ মুখর হবে আরাফাতের ময়দান।
 
সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ পবিত্র হজ। মুসল্লিরা আজ রবিবার সারাদিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। তালবিয়া পাঠ করে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ হাজি আজ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। 
 
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত-বন্দেগি করবেন। মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন সৌদি আরবের প্রধান মুফতি আবদুল আজিজ আল শাইখ। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
 
যারা হজে এসে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে। পবিত্র হজ পালন করতে এর আগে সারা বিশ্বের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কেউ গাড়িতে বা হেঁটে মিনায় পৌঁছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের ১৫ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ পালন করছেন। বিশ্বের প্রায় ১৫ লাখ মুসলিম গতকাল শনিবার পবিত্র হজব্রত শুরু করেছেন। তবে শিয়া অধ্যুষিত ইরান ও সুন্নী সংখ্যাগরিষ্ঠ সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কারণে হাজার হাজার ইরানি এবার হজে অংশ নিতে পারছেন না।
 
আরাফাতের ময়দানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে আজ সারাদিন হাজিরা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকবেন। সাদা ইহরাম বাঁধা অবস্থায় লাখ লাখ হাজির পদচারণায় আরাফাতের ময়দান পরিণত হবে এক শুভ্রতার সমুদ্রে। 
 
আজ রবিবার ফজরের নামাজ পড়ে তারা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। হজের খুতবা শোনা, এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সন্ধ্যায় তারা মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারও এক আজানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ।
 
সেখান থেকে জামারায় (প্রতীকী শয়তান) নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর (ছোট পাথর) সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য রওনা দেবেন হজযাত্রীরা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার আগে জামারাতুল আকাবায় (বড় শয়তান) ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা হবে।
 
জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তারা পশু কোরবানি করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডন করে এহরাম খুলে অন্য পোশাক পরবেন। একে তাহালুলে আসগর বলা হয়। তারপর তাওয়াফে ইফাদা (কাবাঘর তাওয়াফ) এবং সায়ি (সাফা-মারওয়ায় সাত চক্কর) শেষ করে ফের মিনায় ফিরে যাবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিদিন ছোট, মধ্য ও বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। যারা ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে পারবেন না, তারা ১৩ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করবেন এবং জামারায় ১১ ও ১২ তারিখের মতো পাথর নিক্ষেপ করবেন।
 
গত বছরের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে এবছর এই হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। এজন্যে নতুন নতুন কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেমন কাবা শরীফের দুই কিলোমিটারের মধ্যে যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাজীদেরকে দেওয়া হয়েছে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট, যাতে তাদেরকে খুব দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। হাজীদের এবার বিশেষ একটি পরিচয় বহন করতে হবে যা বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশ পরীক্ষা করে দেখবে। এবছর মিনায় প্রচণ্ড গরম পড়েছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।
 
বিবার্তা/জিয়া
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2019 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com