১৩ তারিখ প্রিয়ন্তীর বিয়ে..

১৩ তারিখ প্রিয়ন্তীর বিয়ে..
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:২০:১২
১৩ তারিখ প্রিয়ন্তীর বিয়ে..
বিবার্তা ডেস্ক :
প্রিন্ট অ-অ+
১৩ তারিখ প্রিয়ন্তীর বিয়ে। ছেলে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী। মিস্টার এন্ড মিসেস রায়হানের পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করছে প্রিয়ন্তী। শুনেছি ছেলের বাবা প্রিয়ন্তীর বাবার বাল্যকালের বন্ধু। তাই বিয়েতে প্রিয়ন্তীর বাবা রায়হান সাহেব-য়েই সবচেয়ে বেশি খুসি। প্রিয়ন্তী আমার জন্য ১৭ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছে। আমি এখনো রিকশায়। ইতিমধ্যে ৭বার ফোন কাটা হয়ে গেছে। প্রিয়ন্তী বড়ই অস্থির প্রকৃতির প্রাণী। মাঝে মাঝে ওর বাসর রাতের কথা ভেবে খুব দুশ্চিন্তা হয় আমার।
রিকশা থেকে হুরমুর করে নেমেই দৌড়ের গতিতে হাটা শুরু করলাম। হাজার মানুষের ভিড়েও প্রিয়ন্তী কে খুঁজে পেতে খুব একটা সমস্যা হয় না আমার। প্রিয়ন্তীর চোখে আজ চশমা নেই। প্রিয়ন্তী বলেছিল, ও বিশেষ দিনগুলোতে চশমা পরে না। তবে আজকের কারণ টা আমার জানা নেই।
আমি আসার ২-৩ মিনিট হয়ে গেছে। কিছু না বলে প্রিয়ন্তী এখনো বাদাম খেয়ে যাচ্ছে। ওর দেখাদেখি আমিও বাদাম ছিলতে শুরু করলাম। প্রিয়ন্তী কি জানি ভাবছে। আমি ওর পা থেকে একটা নূপুর খুলে নিলাম। 
প্রিয়ন্তীঃ কি করবি নূপুর টা.?
আমিঃ ধুয়ে পানি খাবো।
প্রিয়ন্তীঃ আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে,তুই কিছু বলবি না.?
আমিঃ Congratulation.....
প্রিয়ন্তীঃ এ্যালেন ওখানে একটা মোবাইল কম্পানী তে জব করে। বিয়ের পর আমরা ওখানেই থাকবো।
আমিঃ আমাকে নিবি না.!!
প্রিয়ন্তীঃ যাবি আমার সাথে.?
আমিঃ না।
আমিঃ এ্যালেন দেখতে কিরকম রে.?
প্রিয়ন্তীঃ মোবাইলের মতো।
আমিঃ ছবি দেখা তো।
প্রিয়ন্তীঃ না,বিয়েতে দেখিস।
আমিঃ আচ্ছা বিয়ের পর আর ফোন দিবি না আমাকে.?
প্রিয়ন্তীঃ দিবো তো।
আমিঃ প্রতিদিন.?
প্রিয়ন্তীঃ হুম্মম্মম্ম।
আমিঃ কতোবার দিবি.?
প্রিয়ন্তীঃ যতোবার মনে পড়বে।
আমিঃ এই নে, আমার দেওয়া তোকে শেষ উপহার। তবে এটা এখন খুলবি না।
প্রিয়ন্তীঃ তাহলে.?
আমিঃ বিয়ের পর।
প্রিয়ন্তীঃ মানে কি.!
আমিঃ মানে এটাই.!!
প্রিয়ন্তীঃ কি আছে এর মধ্যে.?
আমিঃ বিয়ের পর জানতে পারবি।
প্রিয়ন্তীঃ বিয়ের আগে মনেহয় আর দেখা হচ্ছে না আমাদের।
আমিঃ আমিও বাড়ি যাবো ভাবতেছি।
প্রিয়ন্তীঃ কয়েকদিন আগেই তো আসলি.!
আমিঃ আবার যেতে হবে।
প্রিয়ন্তীঃ কি যে আছে তোর ঐ বাড়িতে ভগবানেই জানে।
আমিঃ বউ আছে।
প্রিয়ন্তীঃ চুপ জানোয়ার।
আমিঃ চল উঠি।
প্রিয়ন্তীঃ আন্টির সাথে তুই আজ পর্যন্ত কথা বলায় দিলি না আমাকে.!
আমিঃ বিয়ের পর বলিস।
প্রিয়ন্তীঃ তখন আর বলে কি হবে.!
আমিঃ আগে বলায় দিলেই বা কি হইতো.?
প্রিয়ন্তীঃ হইতো হইতো অনেক কিছু হইতো,তুই বুঝবি না।
আমিঃ ঢং দেখাইস না তো,যা এখান থেকে।
প্রিয়ন্তীঃ যাচ্ছি,যাচ্ছি,এবার চলে গেলে আর পাবিনা।
আমিঃ তুই কবেই বা আর আমার ছিলি, সারাজীবন তো শুধু স্বপ্নই দেখাইলি।
প্রিয়ন্তী কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমার বাম গালে একটা কষে থাপ্পড় মারলো।
আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রিয়ন্তী আমাকে জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলো। প্রিয়ন্তী কে শান্তনা দেওয়ার মতো অবস্থা আমার ছিলো না। বা-গালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে প্রিয়ন্তী দৌড়ে রাস্তার ওপাশে চলে গেলো। প্রিয়ন্তীর দেওয়া এই চুমুর ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। জানতেও চাইনা। বাকিটা পথ একলা পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রিয়ন্তীর দেওয়া এই শান্তনাটুকু আমার জন্য যথেষ্ট। 
প্রিয়ন্তীর বিয়েতে যাওয়ার মতো দুঃসাহস আমার নেই । তবে একখানা শুভেচ্ছা বার্তা তাকে অবশ্যই পাঠাবো.....
 
ফিরোজ সাহেবের ব্লগ থেকে...
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com