বন্দরে কন্টেইনার-জট খুলতেই ২ সপ্তাহ লাগবে

বন্দরে কন্টেইনার-জট খুলতেই ২ সপ্তাহ লাগবে
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:১০:৩২
বন্দরে কন্টেইনার-জট খুলতেই ২ সপ্তাহ লাগবে
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+
কন্টেইনারবাহী প্রাইমমুভার চালক ও মালিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে সৃষ্ট কন্টেইনার-জট সহজে খুলছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই জট খুলতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। তাই এখনও স্বাভাবিক হতে পারছে না চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। 
 
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কন্টেইনার জট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও গত চারদিনে তাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়া অসম্ভব। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু রপ্তানি খাতে গত চারদিনে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে তাও অপূরণীয় বলে দাবি করেন তারা। সামগ্রিক এ উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সেস লোড’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
 
গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুর সামনে বসানো ওজন স্কেলের অনিয়ম তুলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছিল ‘চট্টগ্রাম প্রাইমমুভার ট্রেইলার মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’। এসময় তারা ইতিপূর্বে জারিকৃত ‘এক্সেস লোড’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটিও যৌক্তিক হয়নি বলে দাবি করেন। শুক্রবার পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠকের পর এ ধর্মঘট আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। 
বন্দরে কন্টেইনার-জট খুলতেই ২ সপ্তাহ লাগবে
এরপর দুপুর সাড়ে বারটা থেকে কন্টেইনারভর্তি পণ্যপরিবহন শুরু হয়। তবে কন্টেইনারভর্তি পণ্যপরিবহন শুরুর আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যভর্তি ও খালি প্রায় ৪১ হাজার টিইইউস কন্টেনারের স্তূপ পড়েছিল। যদিও আমদানি, রপ্তানি ও খালি কন্টেইনার মিলে বন্দর ইয়ার্ডে মোট ৩৬ হাজার ৩৫৭ টিইইউস কন্টেনারের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এখানে আবার কনটেইনার হস্তান্তর খালাসসহ বন্দর অভ্যন্তরে সার্বিক অপারেশনাল কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে ইয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতার ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। 
 
এদিকে ধর্মঘটের প্রভাবে বেসরকারি ১৬টি ডিপোতেও ছিল কন্টেইনার জট। গতকাল সকাল পর্যন্ত ডিপোগুলোতে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল ৭ হাজার ৩৫ টিইইউস। আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল ৬ হাজার টিইইউস কন্টেইনার। আবার বন্দর থেকে ডিপোগুলোতে আসবে এমন কন্টেইনার ৪ হাজার ৫শ ৩০ টিইইউস। খালি কন্টেনারের সংখ্যা ৪৪ হাজার টিইইউস। ফলে এ জট কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
 
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, ধর্মঘট স্থগিত হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ২০ থেকে ২৫ দিন লেগে যাবে। কারণ গত কয়েকদিনের ধর্মঘটের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। 
 
এদিকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কন্টেইনার পরিবহনকারী ১০টি জাহাজ বন্দর ছেড়ে গেছে। যা রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
 
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, দৈনিক ৭শ থেকে ৭৫০ কোটি টাকার রপ্তানি বাণ্যিজ্যের টার্গেট থাকে আমাদের। গত চারদিনে তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। হাজার কোটি টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে আমাদের। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কন্টেইনার জট কাটিয়ে উঠতে মিনিমাম ১৫দিন লাগবে। যদি নতুন কোন উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই পণ্যপরিবহন হয়। এখন কন্টেইনার জট হয়তো দূর হবে কিন্তু বহির্বিশ্বে বন্দরের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হল তা কিভাবে দূর হবে। 
 
বেসরকারি অফডকগুলোর সংগঠন বিকডার সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন সিকদার বলেন, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিকদের অযৌক্তিক মনে হচ্ছে না। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া উচিত ছিল। একটি ২০ ফুট কন্টেনারের ওজন হয় ২৪ টন এবং ৪০ ফুট কন্টেনারের ওজন ৩০ দশমিক ৫ টন। গাড়ি ওজন ১৫ টন। এখন যদি ৩৩ টন নির্ধারণ করে দেয় তাহলে তো হবে না। এটা তো আন্তর্জাতিক মানের নয়।
 
বিবার্তা/জিয়া
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com