ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক

ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৬, ২৩:২২:১২
ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+
অবকাশ পেলে ঘুরে আসতে পারেন মনমুগ্ধকর সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। উঁচুনিচু নির্জন পাহাড়, হরিণ, ভালুক, বানর, খরগোশ এবং হনুমানসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সমাহার, পাখ-পাখালীর কলরব, প্রাকৃতিক ঝর্ণা, চিরসবুজ বৃক্ষরাজি সমৃদ্ধ ইকোপার্ক খুবই মনমুগ্ধকর।
 
সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সূর্য যখন গোধূলীর রক্তিম আভা তৈরি করে ইকোপার্কে তখন এক নৈসর্গিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইকোপার্কের প্রধান ফটকের ভেতরে ডান পাশে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের প্রধান নার্সারী এবং অফিস। এই নার্সারীতেই আছে দেশ-বিদেশের নানা প্রচলিত ও বিলুপ্ত প্রজাতীর ফুল, ফল ও ওষুধি গাছ যেমন – অর্জুন, তেলসুর, চাপালিস, চুন্দুল, করই, জারুল, তুন, জাম, জলপাই সহ আরো অনেক।
 
বোটানিক্যাল গার্ডেনে একটি চমৎকার অর্কিড হাউসও আছে। এখানে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতীর প্রায় ৫০ ধরনের অর্কিড আছে। ইকো পার্কের ভেতরেই একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে সেখান থেকে অনেক দুর পযর্ন্ত দেখা যায়। এই এলাকা বিভিন্ন ধরনের গাছ, বুনফুল এবং গুল্মলতায় পরিপূর্ণ। সারা বছর জুড়েই অসংখ্য দেশী-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনায় এই স্থানটি মুখরিত থাকে।
                                                                                                                  
পিকনিক কর্নার: বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে খাবার পানি, রেস্টহাউস এবং টয়লেটসহ পিকনিকের সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক
সহস্রধারা ও সুপ্তধারা জলপ্রপাত: এই চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় অনেক ছোট-বড় ঝর্ণা আছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার মধ্যে দুটো ঝর্ণা রয়েছে। ঝর্ণা দুটি সহস্রধারা ও সুপ্তধারা নামে পরিচিত। সহস্রধারা থেকে অবিরত পানি ঝরছে। কিন্তু সুপ্তধারা থেকে শীতকালে খুব কম পরিমাণ পানি ঝরে। তবে বর্ষাকালে এগুলো তাদের পরিপূর্ণ ধারায় আবর্তিত হয়।
 
এখানে বলে রাখা ভালো এই সহস্রধারা ঝর্ণা সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী এবং ধর্মীয় তীর্থস্থান সহস্রধারা নয়।
 
কিভাবে যাবেন 
 
সড়ক পথে ঢাকা থেকে
বিআরটিসির বাসগুলো ছাড়ে ঢাকা কমলাপুর টার্মিনাল থেকে। আর অন্যান্য এসি, ননএসি বাস ছাড়ে সায়দাবাদ বাস থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিস গুলো হল এস.আলম ও সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। সীতাকুন্ড বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ২ কি. মি. দক্ষিণে ফকিরহাট নামক স্থান দিয়ে এ পার্কে প্রবেশ করতে হয়।
 
চট্টগ্রাম থেকে
 
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার বাসগুলো অলঙ্কার, একেখান, কর্নেলহাট থেকে ছাড়ে। আর জেলার অভ্যন্তরের বিভিন্ন রুটের বাসগুলো মাদারবাড়ী, কদমতলী বাসষ্টেশন থেকে ছাড়ে। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ডে আসতে হলে জেলার আভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলোতে ভ্রমণ করতে হবে। তা ছাড়াও অলঙ্কার থেকে কিছু ছোট গাডড়ি ছাড়ে (স্থানীয়ভাবে মেক্সি নামে পরিচিত) সেগুলোতে করেও আসা যাবে ফকিরহাট নামক স্থানে।
ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক
রেলপথে ঢাকা থেকে
 
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল”-ই শুধু সীতাকুণ্ডে থামে, এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১টায় এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেনগুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়। শুধুমাত্র শিবর্তুদশী মেলার সময় সীতাকুণ্ডে থামে।
 
চট্টগ্রাম থেকে
 
চট্টগ্রাম থেকে ৪টি আন্ত নগর ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে (সকাল ৭টা, ৭.১৫ মিনিট, দুপুর ২টায় এবং রাত ১১টায়)। টিকেট অবশ্যই ২-৩দিন আগে সংগ্রহ করতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে কিছু লোকাল ট্রেনও ছাড়ে যেগুলো করে সীতাকুণ্ডে আসা যায়, এগুলো ভোর ৫টায়, সকাল ৮টায়, ৯টায়, দুপুর ২টায় এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিটে,এগুলোর সময়সূচী পরিবর্তনশীল।
 
কোথায় থাকবেন?
চট্টগ্রাম শহরের অলঙ্কারে থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল আছে। এসব হোটেলের রুম বাড়া ৩০০ থেকে শুরু।
 
বিবার্তা/ইফতি/কাফী
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com