জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনে নামছে বিভিন্ন দল

জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনে নামছে বিভিন্ন দল
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৬, ২০:৪৯:২৮
জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনে নামছে বিভিন্ন দল
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+
গুলশানের রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর বিভিন্ন মহল থেকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার দাবি ওঠে। কিন্তু প্রত্যাশিত জাতীয় ঐক্য গড়ে না উঠলেও এই ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন দল।
 
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছে। সমাবেশে করেছে বাংলাদেশের কমিউিনিস্ট পার্টি, বাসদ, বামমোর্চা। 
 
শনিবার সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সমাবেশ করবে। রাজধানীর কাকরাইলে পার্টি অফিসের সামনে শান্তি সমাবেশে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বক্তব্য রাখবেন। 
 
সমাবেশ সফল করার জন্য শুক্রবার প্রস্তুতিসভা  হয়েছে। সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বলেন, সন্ত্রাস বা সন্ত্রাসী হামলা কোনো দলের সমস্যা নয়, এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবেলায় দল-মত নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শনিবার এই ইস্যুতে আমরা রাজধানীতে সমাবেশ করবো। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
 
বিএনপিও সারা দেশে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামছে। এছাড়া বিভিন্ন ইসলামী দলও এই ইস্যুতে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
 
শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সংস্কৃতিক সংগঠনও গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সভা সেমিনার, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। 
 
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বৃহত্তর যশোর জেলা সমিতি, মনিরামপুর উপজেলা সমিতি, যশোর বিভাগ সমিতি, তরিকত ফেডারেশন, ইসলামী আন্দোলন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অচিরেই  রাজপথে কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানা গেছে। 
 
একই ইস্যুতে  আগামী ২০ জুলাই অভিভাবক সমাবেশ এবং ২১ জুলাই নারী সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।
 
সমাবেশের পর জোট নেতারা রংপুর, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও কুমিল্লাসহ কয়েকটি জায়গায় সমাবেশ করবেন।
 
ইতিমধ্যে এই জোটের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বড় ধরনের সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশ করেছে যুবলীগও। সারাদেশে সমাবেশ ও মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ।
 
সংসদের বাইরের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশের অন্তত বিশটি জেলায় এই ইস্যুতে জনসভার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া  ঢাকাসহ দেশের সব জেলা উপজেলায় সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি নিচ্ছে বিএনপি। 
 
এদিকে অচিরেই দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে ঢাকায় জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় কনভেনশন করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। 
 
শুরু থেকে নিজেদের শক্তি অনুযায়ী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশের কমিউিনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ, বামমোর্চা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। ইতিমধ্যে তারা রাজধানীতে একাধিক মিছিল সমাবেশ করেছে। 
 
সামনের দিনগুলোতে কর্মসূচি আরো জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এ প্রসঙ্গে তিনি বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান জঙ্গি উত্থান বিশ্ব পরিস্থিতি  থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সাম্রাজ্যবাদীরাই বিভিন্ন সময় মৌলবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সৃষ্টি করেছে, মদদ দিয়েছে। অস্ত্র,  প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 
 
বামমোর্চার পক্ষ থেকে ১৩ জুলাই  দেশব্যাপী ‘বিক্ষোভ দিবস’ পালন করা হয়েছে। এছাড়া আগস্ট মাসজুড়ে বিভিন্ন জেলায় বামমোর্চার কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সভা-সমাবেশ এবং  মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
 
ইসলামী দলগুলোও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে। তরিকত ফেডারেশন ১৬ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী দরবার, দরগাহ, মাজার ও খানকাভিত্তিক সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী  প্রচারণা, গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মতবিনিময় ও প্রতিরোধ কমিটি গঠনে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে।
 
এদিকে জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে জনমনে সন্ত্রাসবিরোধী চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান এবং  দেশের শান্তি ও সুস্থিতির জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে  দোয়া করতে ইসলামী ঐক্যজোটের পক্ষ হতে  দেশের সকল ইমাম ও খতিবের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে জোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বিবার্তাকে বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই ইস্যুতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস নির্মূলে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসলামের মধ্যপন্থা অনুসরণ করতে হবে।
 
বিবার্তা/বিপ্লব/রয়েল
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com