ড্রাগন ফলে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

ড্রাগন ফলে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৬, ২২:০৬:৩০
ড্রাগন ফলে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন
এইচ আর তুহিন, যশোর
প্রিন্ট অ-অ+
নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষাবাদ যশোরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে লাগানো গাছে এখন ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। অত্যন্ত সুদৃশ্য সেই ফল চাষিরা নিজেরা খাচ্ছেন; পাঠাচ্ছেন আত্মীয়ের বাড়িতে। করছেন বিক্রি। 
 
অল্প জায়গায় দীর্ঘজীবী এ ফল চাষ করে কৃষকরা পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
 
যশোরের মনিরামপুরের প্রত্যন্ত এলাকা পলাশী। জেলার মধ্যে এই গ্রামের চাষিরাই প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষাবাদ। এ গ্রামের ১০ জন চাষি ক্ষেতে এবং ৫০ জন চাষি বাড়ির আঙ্গিনায় ড্রাগনের চাষ করেছেন। সেই গাছে বড় বড় ড্রাগন ফল ধরেছে। যা কৃষক কেজি প্রতি ৪০০ টাকা বিক্রি করছেন। 
 
এভাবে ফল বিক্রি করতে পারলে বছরে কৃষক অন্তত পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন।
 
ড্রাগন ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা ক্ষেতে ছয় হাত অন্তর ড্রাগন গাছ লাগিয়েছেন। এর ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে কেউ লাগিয়েছেন বেগুন, কেউবা পটল ও পেঁপে গাছ। ড্রাগন গাছগুলো খুঁটি পুতে বেঁধে দেয়া হয়েছে।
 
এখন পর্যন্ত সেগুলো লম্বা হয়েছে ছয় থেকে আট ফুট পর্যন্ত। গাছের কোনো কোনোটিতে ‘নাইট কুইনে’র মতো দেখতে ফুল এসেছে। আবার কোনো কোনোটিতে ফল ধরেছে। 
 
ক্ষেতে কথা হয় প্রদীপ বিশ্বাসের সাথে। তিনি জানান, প্রায় দু’বছর আগে যশোরের কৃষি বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা জাগরণী চক্রের ‘সফল’ নামক প্রকল্পের মাধ্যমে তারা বিদেশি ড্রাগন ফলের চাষাবাদে লাভ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারেন। 
 
এরপর তিনি চার শতক জমিতে ৫০টি চারা লাগান। এরপর আস্তে আস্তে পরিধি বাড়ান। তিনি বলেন, এখন আমি নিজে চারা তৈরি করি। এখন ২০০ এর উপরে চারা গাছ রয়েছে। ২৬টি চারা বিক্রি করেছি ২৬শ’ টাকায়। 
 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি ফল একশ টাকা হিসেবে ৯শ’ টাকার ফল বিক্রি করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে আরও বিক্রি করবো। 
 
আরেক চাষি পলাশী দাসপাড়া গ্রামের পরিমল খাঁ বলেন, আমি দুই শতক জমিতে ৪০টি চারা লাগিয়েছি। ইতোমধ্যে ২২টি ফল পেয়েছি। যেহেতু নতুন ফল তাই নিজেরা কিছু খেয়েছি আর বিক্রি করেছি।
 
তিনি আরো বলেন, এতে আমার কোনো খরচ হয়নি। আমি নিজের বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে জমিতে দিয়েছি। আর গাছ যাতে হেলে না পড়ে এজন্য নিজ ঝাড়ের বাঁশ ব্যবহার করেছি।
 
বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের আরেক চাষি প্রকাশ কুমার বলেন, আমি তিন শতক জমিতে চাষ করেছি। গাছে ফল ধরা শুরু করেছে। বাড়িতে এখন দুই কেজি ফল রয়েছে। কিছু ফল নিজেরা খেয়েছি। শহরে দাদার বাড়িতেও পাঠিয়েছি।
 
আরেক চাষি প্রদীপ কুমার জানান, তিনি চার শতক জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে গাছে ধরা ফল তিন কেজি চারশ’ টাকা দরে ১২শ’ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, জাগরণী চক্রের ‘সফল’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা এ চাষ শিখেছেন। তারা জেনেছেন উঁচু জমিতে ড্রাগন চাষ ভালো হয়। এ গাছ একবার লাগালে ১৫-২০ বছর বেঁচে থেকে ফল দেয়। 
 
‘সফল’ প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার নাজমুল হোসেন জানান, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ড্রাগন চাষে চাষিরা খরচ বাদ দিয়ে কম পরিশ্রমে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। অধিক লাভজনক হওয়ায় চাষিরা এ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রথমে ১০ জন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করলেও এখন আরও ৫০ জন বাড়িতে গাছ লাগিয়েছেন।
 
‘সফল’ প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, যশোরের কৃষকদের যাতে এ ফল বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা না হয় এজন্য তারা শহরের গ্রিন বাজারে লিংকেজ করে দিয়েছেন। সেখানে কৃষক যত খুশি ফল বিক্রি করতে পারবেন।
 
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার মুঠোফোনে জানান, তারা ড্রাগন চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা দিচ্ছেন। তারা এ ফলের গুণাগুণ ও চাষাবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাষিদের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন। 
 
বিবার্তা/তুহিন/কাফী
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com