বানভাসিদের পাশে কেউ নেই

বানভাসিদের পাশে কেউ নেই
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৬, ২০:২২:৩২
বানভাসিদের পাশে কেউ নেই
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+
বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে উত্তরের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ১৯৮৮ সালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবার বন্যায়  পঁচিশ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনাহার-অর্ধাহারে দিন যাপন করছে  লাখ লাখ মানুষ।
 
বন্যাকবলিত এই সব মানুষের সাহায্যার্থে  সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
 
এক সময় এ ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বেসরকারি সংস্থা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ  থেকে ব্যাপকভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হতো। কিন্তু এবারের বন্যায় সেরকম কোন তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে যে ধরণের ত্রাণ তৎপরতা চালানো হতো এবার তা দেখাই যাচ্ছে না। 
 
তবে বুধবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। বিরোধী দল জাপাও বৃহস্পতিবার থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবে বলে জানা গেছে। 
 
তবে এর আগেই জাতীয় পার্টির এমপিদের পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ গাইবান্ধায় দলের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন ।
 
তবে সংসদের বাইরের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এখনো ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। বিএনপি চেয়ারর্পাসন বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে দায় সেরেছেন। 
 
অতীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যান্য বামপন্থি দল এই ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগে সবার আগে এগিয়ে আসতো। তবে এবার ব্যতিক্রম। এখনো পর্যন্ত কোনো বামদলের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়নি। সিপিবিও বিএনপির মতো ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে দায় সেরেছে। তবে সিপিবি নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা না হলেও সিপিবির জেলা নেতারা বানভাসিদের সাধ্যমতো সাহায্য করছেন। 
 
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে  অন্তত ২৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বানভাসী মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাঁধ, উঁচু স্থান বা ঘরের উপর মাচা করে। 
 
পানিবন্দি এসব মানুষের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।
 
সরকারিভাবে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণের কথা বলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশুখাদ্য, খাবার স্যালাইনসহ জরুরি ঔষধের যোগান প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। 
 
সরকারি হিসাবমতে, বন্যায় ইতিমধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি বলে জানা গেছে।
 
বুধবার থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৮ টি টিম সারা দেশে ত্রাণ বিতরনের কাজে নেমে পড়েছে।
গাইবান্ধা  জেলায় বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে সরকার ৪০ লাখ টাকা ও ১ হাজার ৫০  মেট্রিক টন চাল এবং বিভিন্ন শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। গাইবান্ধার দুর্গত মানুষের জন্য নতুন করে আরও ১০ লাখ টাকা এবং ১শ’ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
  
মানিকগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। 
 
নীলফামারীতে বন্যাকবলিত এলাকা সফর করছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ সদস্যসের  প্রতিনিধি দল। দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খানের  নেতৃত্বে  বুধবার দুপুরে প্রতিনিধি দলটি তিস্তার বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত  প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ এক হাজার টাকা বিতরণ করেন।
 
এই ব্যাপারে জাতীয় পাটির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী এবিএম  রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বিবার্তাকে বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে অতীতের মত জাতীয় পার্টি এখনও থাকবে। ১৯৮৮ সালের বন্যার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টি বন্যার্ত মানুষের জন্য কাজ করছে।  
 
বিবার্তা/বিপ্লব/মৌসুমী/হুমায়ুন
 
 
 
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com