যশোরের সবজি চাষিদের স্বপ্নভঙ্গ

যশোরের সবজি চাষিদের স্বপ্নভঙ্গ
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৬, ১৬:৩০:৪২
যশোরের সবজি চাষিদের স্বপ্নভঙ্গ
এইচ আর তুহিন, যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+
সবজি চাষে বিখ্যাত যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নের সবজি ক্ষেতগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে তালিয়ে যাওয়া সবজি ক্ষেতের দিকে হতাশার চোখে তাকিয়ে আছেন চাষিরা। 
 
চাষিরা বলেন, সবজি চাষ করে এ বছর তাদের লোকসান হবে। যে কারণে অনেকেই দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়বেন। তাদের লাভের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
 
যশোর জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এমদাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৯শ’ হেক্টর আবাদকৃত সবজি ক্ষেতের মধ্যে ৫ হাজার ২শ’ হেক্টর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। 
 
চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে বারো মাসই কোনো নো কোনো সবজির চাষ হয়ে থাকে। বৃহত্তর যশোর জেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় এখানে। যে কারণে চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুরকে সবজির রাজধানী হিসেবেই জানে মানুষ। এবারো মাঠে মাঠে ছিল সবজির সমারোহ।
 
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে সাড়ে ৬শ’ হেক্টর ও হৈবতপুর ইউনিয়নে ৯শ’ ৭৭ হেক্টর জমিতে এ বছর সবজির চাষ হয়েছে। যে কারণে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই সবজি ক্ষেত। কিন্তু গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণের কারণে এসব ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চাষিরা ক্ষেত থেকে পানি বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন। 
 
তারা বলেন- ক্ষেত জলমগ্ন হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ফুলকপি, বাঁধা কপি, মরিচ, শসা, বেগুন, শিম, লাল শাক, সবুজ শাক, কচু, মূলা ও বিভিন্ন সবজির বীজতলার। 
 
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের মোড়ল হোসেন জানান, তিনি জমি লিজ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে হরেক রকমের সবজির চাষ করেছেন। সুদ ও কিস্তির টাকা নিয়ে তিনি সবজি চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার আড়াই লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। আশা ছিল এ বছর সবজি চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। কিন্তু প্রবল বর্ষণের কারণে তার সবজি ক্ষেতগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যে কারণে তার মাথায় হাত।
 
সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় হতাশায় ব্যক্ত করেন আব্দুলপুর গ্রামের রফিকুল, লিটন হোসেন, ফারুক, মতিয়ার রহমান, পোলতাডাঙ্গা গ্রামের জাপলা মিয়া, কামাল হোসেন, বাগডাঙ্গার হযরত আলী, চুড়ামনকাটি গ্রামের রুহুল আমিন, মিজানুর রহমান, হারুন হোসেন, হৈবতপুর গ্রামের আতিয়ার, রবিউল ইসলাম, মানিকদিহি গ্রামের শমসের আলী ও লাউখালী গ্রামের মিন্টু হোসেন। 
 
তারা জানান, ক্ষেতে পানি জমে থাকার কারণে তাদের সব সবজি নষ্ট হয়ে যাবে। কোনো উপায়েই সবজি রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রবল বর্ষণের কারণে চাষিরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
 
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে মঙ্গলবার পর্যন্ত সাড়ে ৪শ’ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 
 
হৈবপুতর ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নে পানিতে তলিয়ে গেছে ৭শ’ হেক্টর জমির সবজি। এ দুই কৃষি কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রবল বর্ষণের কারণে চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে ৬ কোটি টাকারও বেশি সবজির ক্ষতি হবে।
 
বিবার্তা/তুহিন/কাফী
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com