বিদেশি এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

বিদেশি এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৬, ১৯:০৯:৩৭
বিদেশি এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি
মৌসুমী ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে আনতে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো (এনজিও) কাজ করছে। সরকারের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশিদের পাশাপাশি সম্পৃক্ত বহু বিদেশি। 
 
কিন্তু জঙ্গিহামলার পর সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা এসব বিদেশির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এ অবস্থায় সতর্ক অবস্থানে এনজিও খাত। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা এনজিও কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছে এনজিও ব্যুরো। কারণ, গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গিহামলার পর এনজিওর প্রকল্প এলাকায় চলাচল এক প্রকার বন্ধই করে দিয়েছে বিদেশিরা।
 
এরই পরিপেক্ষিতে দুই সপ্তাহ আগে এনজিও ব্যুরো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে কর্মরত প্রায় সাড়ে চার শ’ বিদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকটি জেলা প্রশাসককেও চিঠি দেয়া হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এনজিও কর্মকাণ্ডে বিদেশিরা অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী।
 
এনজিও ব্যুরোর যুগ্ম পরিচালক কে. এম. আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের সহযোগী সংস্থা হিসেবে দেশি/বিদেশি এনজিও গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে অনেক বিদেশি নাগরিক স্বেচ্ছাসেবী বা বেতনভুক্ত কর্মচারী বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করছেন। এ সমস্ত বিদেশি নাগরিক যাতে জঙ্গীহামলার শিকার না হন সেজন্য তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরীভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকের প্রকল্প এলাকায় যাতায়াত কিংবা অবস্থানকালীন তথ্য সংশ্লিষ্ট এনজিওর স্থানীয় প্রতিনিধি বা দফতর হতে সংগ্রহ করে পুলিশ প্রশা্সনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে।’  
 
চিঠিতে প্রতি জেলায় এনজিও কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বিদেশিদের তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। 
 
এনজিও ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, এ খাতে কর্মর্ত বিদেশিদের তালিকায় তৈরী করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। খসড়া তালিকায় ৪২৬ জনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে এনজিও ব্যুরো। তালিকায় বিদেশির নাম ও অবস্থান, পাসপোর্ট নম্বর ও মেয়াদ, দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরা হয়েছে। 
 
ওই তালিকায় দেখা যায়, এদের বেশিরভাগের অবস্থান গুলশান, মহাখালী, বারিধারা ও বনানী এলাকায়। রাজধানীর বাইরেও বিপুলসংখ্যক বিদেশি অবস্থান করছে। মূলত যুক্তরাজ্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকরা এদেশে এনজিওখাতে বেশি কাজ করছে বলে এনজিও ব্যুরোর তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে। 
 
সূত্র জানায়, অনেকে ৫-৮ বছরও এদেশে অবস্থান করছে। অনেকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে দেশ ত্যাগ করছেন। কিন্তু জঙ্গিহামলার পর অনেকে প্রকল্পের চুক্তি বাতিল না করলেও এদেশে আসতে চাইছেন না। 
 
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদ্দীপনের নির্বাহী পরিচালক এমরানুল হক চৌধুরী  বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সবসময় সতর্ক থাকার জন্য প্রতিটি শাখায় চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি শাখা, অঞ্চল, জোন ও বিভাগ বা প্রকল্পে তাদের আওতাধীন দফতর ও নানাবিধ স্থাপনাসহ জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. বাকী খলিলী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বিদেশি এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তা দেয়ার সিদ্ধান্তটি অবশ্যই ভালো। তারা দেশের যে কোনো প্রান্তে গেলে যেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ১৯৭০-৮০ দশকে এ খাতে কর্মরত বিদেশিদের গ্রাম পর্যায়ে যতোটা অংশগ্রহণ ছিল এখন তেমনটি নেই। অনেকেই ভয়ে ঢাকার বাইরে যেতে আগ্রহী নয়। বিদেশিরা দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্যউন্নয়নে কাজ করছে, তাই তাদের নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
 
বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন
 
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com