বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসর আল আমিন হোসেনের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯০ ঝিনাইদহ জেলায়। বাবা সরকারি কর্মকর্তা আর মা গৃহিণী ছিলেন। পরিবারে শুধু বড় ভাই ক্রিকেট খেলতেন আর তাকে দেখেই মূলত ক্রিকেটে আসা। তবে ক্রিকেটে আসার দিনগুলোতে আছে অনেক সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প। চলুন শুনে আসি আল আমিন হোসেনের কাছ থেকেই।
‘ছোটবেলায় প্রচণ্ড ক্রিকেট পাগল ছিলাম। বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলবো কিনা এটা কখনো ভাবিনি, তবে মাশরাফি ভাইয়ের সাথে বোলিং করতে হবে এই ইচ্ছেটা সবসময়ই ছিল। স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট মাঠে চলে যাওয়া, বাবা মায়ের বকাঝকা শুনা, মার খাওয়া দিয়ে শুরু হয় স্কুল জীবনের ক্রিকেট। ’
তখন থেকেই বোলিং বেশ পছন্দ ছিল এই টাইগারের। তারপরও ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ছড়াতেন সমান তালে। চলে যেতেন দূরের কোনো গ্রামে ক্রিকেট খেলতে। এভাবে চলতে থাকে এসএসসি পর্যন্ত। তারপর শুরু হয় ক্রিকেট বলে বোলিং। তারপর ঝিনাইদহ জেলার হয়ে বয়স ভিত্তিক
ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ খেলে ঢাকার জন্য পাড়ি জমান।
ঢাকায় এসে হাবিবুল বাশার সুমনের ভাই দোদুল বাশার রিপন ভাইয়ের টিম ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে আমাকে বোলিংয়ের জন্য ডাকা হয়। তখন রাজীব, সাজেদুল, রুবেল সবাই ওখানে বোলিং করতো। শুরু হলো নেট বোলারদের জীবন।
‘তারপর লালমাটিয়ার হয়ে ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেলাম। সেখানে তাসকিনকে পেলাম সতীর্থ হিসেবে। কিন্তু আমাদের টিমটা বেশ খারাপ করছিল। তখন সরোয়ার ইমরান স্যারকে বলা হয় আমাদের কিছু ক্লাস নেবার জন্য। তখন আমাদের
ট্রেইনার সিজার ভাই স্যারকে বললো, ‘আমাদের একজন ভালো পেসার আছে অনেক জোরে বল করতে পারে। আমি বল করার সুযোগ পেলাম এবং স্যার বেশ পছন্দ করলেন।’
তারপর স্যারের তিন সপ্তাহের একটি পেস বোলিং ক্যাম্পে আল আমিনকে সুযোগ দেওয়া হলো। সেখানে পঁচিশ জনের মধ্যে শুধু একজনকে পাঠানো হবে গ্রামীণফোন বিসিবি টিমে। কিভাবে যেন সুযোগটা পেয়ে গেলেন। তিনি প্র্যাকটিসে পরপর টানা দুই ম্যাচে চার উইকেট পেলেন।
চব্বিশ জনের টিম থেকে বারো জনের দলে ডাক আসে। সুযোগ মেলে সাউথ আফ্রিকা টিমের বিপক্ষে খেলার। পরবর্তীতে ট্যুরটা বাদ হয়ে যায় এবং সাউথ আফ্রিকা আসে খেলার জন্য। একটা টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় এবং দুইটা উইকেট পেয়ে আবার ইনজুরির শিকার হয়ে পড়েন।
ফিরে যান আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে। এরপরের বছর আবার শুরু হয় প্রথম বিভাগ ক্রিকেট। তখন মাশরাফি ভাইয়ের সাথে খেলার সুযোগ পান খুলনা বিভাগের হয়ে। সুযোগ পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচে দুই উইকেট পান। তৃতীয় ম্যাচে খারাপ খেললেই বাদ। হাল ছাড়েননি।
সেই ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলিয়ে বারো উইকেট নিলেন। তারপরের দুই ম্যাচেও দশ উইকেট করে নিলেন। সেই লিগে খুলনার হয়ে সাত ম্যাচ খেলে উনচল্লিশ উইকেট পান আল আমিন। ঢাকায় ফিরে এসেই সাউথ আফ্রিকা ট্যুরে গেলেন। দেশে ফিরে প্রথম বিপিএল আসরে খেলেন কয়েকটা ম্যাচ। পারফর্মেন্স অবশ্য তেমন কিছু ছিল না। এরপর ঘটে গেল স্বপ্নের মতো কিছু ঘটনা।
সেই স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে আল আমিন বললেন, ‘তারপর ২০১২’তে এসে বাংলাদেশ এ টিমে আমাকে ডাকা হয় ইংল্যান্ড ট্যুরের জন্য। সেখানে আমি সবচেয়ে বেশি উইকেট নেই। এরপর প্রিমিয়ার লিগে এসে চার ম্যাচে বিশ উইকেট। তারপরে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ ট্যুরে আসে। আমার প্রথম সুযোগ হয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার। কোনদিন ভাবিনি বাংলাদেশ দলে খেলবো।’
বিবার্তা/প্লাবন