বডি ল্যাংগুয়েজ যে ভুল তথ্যগুলো দেয়

বডি ল্যাংগুয়েজ যে ভুল তথ্যগুলো দেয়
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:১৯:৫৬
বডি ল্যাংগুয়েজ যে ভুল তথ্যগুলো দেয়
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

মানুষের আচরণের বিজ্ঞানই মনোবিজ্ঞান। মনোবিজ্ঞান বলে, আচরণ বুঝতে হলে গ্রহণ করতে হবে ব্যক্তির আচরণ প্রকাশের সমস্ত ভাষা। Body language বা শারীরিক ভাষা মানুষের মনের অবস্থা প্রকাশের বিভিন্ন প্রকারের মাধ্যমের একটি। তাই এটি দিয়েই যদি সমস্ত মনের ভাব বিচার করা হয় তাহলে ভুল হবে। কিন্তু আমরা প্রায়ই শারীরিক ভাষার উপর নির্ভর করে পরিচিত এমনকি অপরিচিত মানুষকে বিচার করি। যা শতভাগ ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
মানুষের মনের ভাব অনেক জটিল। বডি ল্যাংগুয়েজ আরও জটিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ সঠিক শারীরিক ভাষা প্রকাশ থেকে দূরে থাকে। এ বিষয়ে ৪ টি সাধারণ ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞ রোনাল্ড এ রিজ্ঞিও। তিনি ক্লেরেমোন্ট ম্যেকেন্না কলেজে নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানে প্রভাষক এবং শতটিরও বেশি বইয়ের লেখক।
 
হাসি মানেই ইতিবাচক ইঙ্গিত: হাসির মানে কী? মানুষের হাসি বিভিন্ন রকম হতে পারে। সবসময় আমরা কি সেই মানে বুঝি? একটি গবেষণায় দেখা গেছে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের হাসির মানে বেশি জটিল হয়। নারীরা সবসময় সত্যিটা প্রকাশ করেন না। তাদের মনের ভাগ এমনকি সম্পূর্ণই বিপরীত হতে পারে। একটা ইন্টার্ভিউ বোর্ডে দেখা গেছে, সেখানে নানান প্রশ্নের মাঝে যৌন হয়রানিমূলক প্রশ্ন করা হচ্ছিল নারী প্রার্থীদের। সাধারণ প্রতিক্রিয়ায় সব নারীই একটি হাসি ধরে রাখছিলেন মুখে। তাদের মনে অস্বস্তি, বিরক্তি থাকলেও তারা সেটা প্রকাশ করছিলেন না। কিন্তু তাদের এই মিথ্যা হাসি দেখে অন্যেরা কিন্তু ভুল ভাবছিলেন। অনেকেই এটাকে ‘আমন্ত্রণ’ ভেবে ভুল করছিলেন। গবেষকরা বের করেছেন, কিভাবে আসল এবং নকল হাসি বোঝা যাবে! তারা বলছেন, আসল কথা লুকিয়ে আছে চোখে!
  বডি ল্যাংগুয়েজ যে ভুল তথ্যগুলো দেয়


মিথ্যা বলা যায় না চোখে চোখ রেখে
: আমরা কিছু প্রচলিত সত্য ধরে নিই। যেমন চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যা বলা যায় না। মিথ্যা বলতে গেলে অবশ্যই হাত পা কাঁপবে বা অস্বস্তি প্রকাশ করব, কথা আটকে যাবে, ইত্যাদি। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মিথ্যা বলার সময় মানুষ আরও সহজে চোখে চোখ রাখে। কারণ, চোখে চোখ রেখে মিথ্যা বলা যায় না, আপনার এই ধারণাটি এত প্রচলিত যে সেও জানে। তাই মিথ্যার সময় নিজেকে সত্য প্রমাণ করতে সে চোখের দিকেই তাকায়। বরং সত্য বলার সময় কম তাকায়। কারণ সে যেটা সত্য বলছে সেটা তো সত্যই। সেখানে কোন ভণিতার প্রয়োজন নেই।
 
স্পর্শ মানেই আকর্ষণ: আমরা মন করি স্পর্শ আকর্ষণ প্রকাশ করে। কিন্তু এর ভিন্ন আরও অনেক মানে থাকতে পারে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাকেও। লিঙ্গভেদে এই মানেও ভিন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা যখন কোন নারীকে স্পর্শ করে অনেক সময়ই সেটি হয় কর্তৃত্ব প্রদর্শন। নারীদের স্পর্শেরও ভিন্ন মানে থাকে। একজন ওয়েট্রেস যখন কাস্টমারকে বিল নেয়ার সময় হালকা স্পর্শ করেন তার মানে তিনি তখন আরও টিপস প্রত্যাশা করছেন। এমনকি আপনাকে জড়িয়ে ধরার মানে শুধুই মনোযোগ আকর্ষণ হতে পারে। শারীরিক আকর্ষণ নয়।
 
নার্ভাসনেস ইতস্তত বোধ তৈরি করে: নার্ভাসনেস বা স্নায়ুবিক দুর্বলতা মানুষ কীভাবে প্রকাশ করে? একটা মানুষ যখন কথা বলতে বলতে থেমে যায় বা লিখতে গিয়ে, প্রেজেন্টেশনে বক্তব্যের মাঝে হঠাৎ একটু আটকায় আমরা মনে করি, সে নিশ্চয় নার্ভাস বোধ করছে। আসলেই কি তাই? এই ভুল ধারণা আমরা পাই আমাদের স্কুল থেকে। আমরা ক্লাসে খেয়াল করি পড়া দেয়ার সময় আমাদের সহপাঠী কীভাবে আটকে যেত! গবেষোণায় দেখা গেছে এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ থেমে যায় স্মৃতিকে আরও গুছিয়ে নিতে, আরও শব্দ একত্র করতে এবং সে সফল হয়। তবে অনেক সময়, ধৈর্য্য এবং অনুশীলনের মাধ্যমে শারীরিক ভাষা বোঝার দক্ষতা অর্জন করা যায়। শারীরিক ভাষার শব্দকোষও আছে।

বিবার্তা/জিয়া
 

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com