পরিচিত জিনিসের অপরিচিত রূপ

পরিচিত জিনিসের অপরিচিত রূপ
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:২২:৪৭
পরিচিত জিনিসের অপরিচিত রূপ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আমাদের আশেপাশে থাকা অতি সাধারণ কিছু জিনিস অসাধারণ অনেক কিছু প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পেছনে থাকে নানা কারণ, নানা গল্প, এমনকি কখনো কখনো কুসংস্কার। কারণ যাই হোক না কেন, সাদা চোখে আমরা যা দেখি, প্রতীক বিশ্বে সেটা দেখা হয় অন্যভাবে। জেনে নিন এমনই কিছু অতি পরিচিত জিনিস কীসের প্রতীক।

কোকিল
• অনেক দেশের মানুষ কোকিলকে আত্মার পাখি বলে চিহ্নিত করত।

• গ্রিক দেবতা জিউসের স্ত্রী হেরা সব সময় একটি কোকিল সঙ্গে রাখতেন। কারণ জিউস বিয়ের আগে একবার রূপ বদলে কোকিল হয়েছিলেন।

• কোকিল সব সময়ই কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন লোকগাথাও চালু রয়েছে। আমেরিকানদের সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, তারা হচ্ছে কোকিল, কারণ তারা অন্যের ঘরে নিজেদের বাসা বানায়।

• জার্মানিতে কোকিলের ডিমকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হতো। এমনও বিশ্বাস করা হতো যে, কারও সামনে এই পাখি যতবার ডেকে উঠবে, ওই ব্যক্তি তত বছর বাঁচবে! এখন অবশ্য জার্মানিতে কোকিলকে শয়তানের প্রতীক হিসেবেই গণ্য করা হয়।

• ইংল্যান্ডে কোথাও কোথাও এখনো এমন লোকাচার চালু আছে, কোকিলের ডাক শুনলে পকেটের পয়সা বাজাতে হয় এই বিশ্বাসে যে, এর ফলে অর্থভাগ্য খুলে যাবে!

শিশির
• আদিমকালে মানুষ বিশ্বাস করত শিশির স্বর্গ থেকে ঝরে! ভোরে দেবীর বার্তাবাহক হলো শিশির- এরকম ধারণা করা হতো তখন।

• মধ্যযুগে একে ব্যাখ্যা করা হতো খ্রিস্টের পুনরাগমনবার্তা হিসেবে।

• বৃষ্টির মতো শিশিরকেও স্রষ্টার রহমত হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিভিন্ন ধর্মে এবং লোকঐতিহ্যে।

• পরশ পাথর বা ফিলোসফারস স্টোনকেও শিশির দিয়ে প্রতীকায়িত করা হতো। আলকেমিস্টদের সাইলেন্ট বুকে পোশাকের ওপর শিশিরের উপস্থিতির বিশেষ রূপকমূল্য ছিল।
পরিচিত জিনিসের অপরিচিত রূপ


• খ্রিস্ট ঐতিহ্যে শিশিরকে মনে করা হয় পবিত্র আত্মার উপহার হিসেবে।

আংটি
• অসীম বা চিরন্তনের প্রতীক আংটি ইহলোক ও পরলোকের যোগসূত্রও বটে।

• গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় সাধারণত বিশিষ্ট লোকেরা লোহার আংটি পরতে পারতেন। জুপিটারের মন্দিরের পুরোহিত স্বর্ণের পরতে পারতেন। এছাড়া এই সুযোগটি পেতেন কেবল সিনেটর ও নাইটরা।

• আংটির সঙ্গে জাদুবিদ্যার যোগও আছে। যেমন সলোমনের সিগনেট রিং।

• মধ্যযুগে আংটি বিবাহ বা বাগদানের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়। তখন থেকেই রোগবালাই দূর করার জন্য রত্নখচিত আংটি পরা হতো। ভাঙ্গা আংটি শর্ত ভঙ্গের প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো।

• আংটি হারানোকে খুবই অশুভ কিছুর পূর্বাভাস বলে ধরে নেয়া হতো।

• মধ্যযুগে জার্মানিসহ অনেক দেশে আংটিকে অনেকে অভিশাপ বা প্রাপ্তিযোগের উৎস বলে বিবেচনা করতো।

• আংটি ছিল সম্মাননার প্রতীকও। রাজা যদি কাউকে আংটি দিতেন তাহলে ধরে নেয়া হতো তিনি রাজার অনুগ্রহভাজন। অ্যারিস্টটল উল্লেখ করেছেন, বিশিষ্ট নাগরিকরা কমান্ডারদের আংটি দিয়ে পুরস্কৃত করত, যখন তারা শত্রুদের নিপাত করে ঘরে ফিরত।

মাছ
• অনেক প্রাচীন ধর্মে মাছ প্রেমের দেবতা হিসেবে পূজিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাছকে ‘ঠাণ্ডা রক্তের প্রাণী’ বলে উল্লেখ করা হয়, যার মানে হলো মাছ আবেগবিবর্জিত।

• আদি চীনে মাছ সুখসমৃদ্ধির প্রতীক।

• জাপানে মাছ বেশ সমাদৃত। কাঁচা, সেদ্ধ বা তেলে ভেজে নানা প্রক্রিয়ায় সেখানে মাছ খাওয়া হয়। জাপানে নানা মাছ নানা প্রতীকে হাজির হয়। যেমন কার্ফু মাছ সাহস, শক্তি আর স্থায়িত্বের প্রতীক। প্রতি বছর মে মাসের পাঁচ তারিখে প্রত্যেক বাড়ির সামনে এই মাছের ব্যানার দেখা যায়।

• ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় মাছ হলো সৌভাগ্যের প্রতীক। এ কারণে মধ্যপ্রচ্যের কোনো কোনো দেশে নববর্ষের উৎসবে এখনো মাছের ব্যবহার দেখা যায়।

• মাছ মীন রাশির প্রতীক। খ্রিস্টের সত্যিকার জন্মবর্ষ মনে করা হয় সাত অব্দকে। সে বছর বৃহস্পতি, শনি ও মীন রাশির অবস্থান একই রেখায় ছিল। কিছু খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিক মনে করেন নূহের প্লাবনের সময় একমাত্র মাছেরাই ঈশ্বরের অভিশাপ থেকে রেহাই পেয়েছিল।

• মধ্যযুগের চিত্রকলায় ত্রিনাক্রিয়া নামে এক পৌরাণিক জেলেকে তিনটি দেহ এবং একটি মাথা নিয়ে ট্রিনিটির প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়।

• হিন্দুপুরাণে বিষ্ণু একবার মনুকে উদ্ধারের জন্য মাছের রূপ ধারণ করেছিলেন।

• মাছের সঙ্গে সাধুসন্তদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অনেক সন্ত মাছেদের রাজ্যে তাদের প্রচারকার্য চালিয়েছেন বলে উল্লেখ আছে। আদি মিশরে সাধারণ মানুষ মাছ খেত, কিন্তু পুরোহিত ও রাজাদের জন্য সেটা নিষিদ্ধ ছিল।

চুল
• পুরাণে চুল শক্তির প্রতীক। উদাহরণ হিসেবে বাইবেলের বীর স্যামসন অগাস্টিনের কথা বলা যেতে পারে। চুলের মধ্যে তার শক্তি ছিল এটা জানার পর তার চুল কেটে দিয়েছিল তার প্রতিপক্ষ।

• আগেকার দিনে সন্তরা সভ্যতা থেকে দূরে থাকার জন্যই চুল দীর্ঘ করতেন বলে মনে করা হয়। জার্মান সংস্কৃতিতে দীর্ঘ চুল স্বাধীন লোকজনই রাখতে পারতো। দাসদের চুল থাকত খাটো।

• বিভিন্ন ছবিতে শয়তানের মাথায় চুলের বদলে সাপ দেখা যায়। লাল চুলকেও শয়তানের চিহ্ন বলে বিবেচনা করা হয়।

• আধুনিককালে পুরুষের দীর্ঘ চুল প্রচলিত নিয়মনীতির প্রতি বিদ্রোহ বা অবজ্ঞাসূচক। অনেক পুরাণ ও রূপকথায় মেয়েদের দীর্ঘ চুল কুমারীত্বের প্রতীক। যেমন রূপাঞ্জেল।

• অনেক জাদুর প্রক্রিয়াতেও চুলের ব্যবহার দেখা যায়। অন্য কারও চুল নিয়ে নিজের মনের বাসনার কথা বলে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলে সে বাসনা পূর্ণ হবে এমনটা বিশ্বাস করাতে চান জাদুকররা। উনিশ শতকে প্রিয়জনদের চুল লকেটে পুরে রাখার চল ছিল ব্যাপকভাবে।

বিবার্তা/জিয়া
 

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com