পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীগুলো

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীগুলো
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৮:৫৫:২৫
পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীগুলো
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+
চার্লস ডারউনের জম্মের সময় যে কচ্ছপগুলোর বয়স ছিল ৫০ বছর আজও তারা বেচেঁ আছে সুস্থ শরীরে। ২০০ বছর আগে বৃদ্ধ হওয়া টেটা শরীরে নিয়ে এখনও বয়ে চলেছে আর্কটিক তিমি। সেই রোমান সম্রাটের সময় থেকে আর্কটিক সাগরের তলদেশে বাস করছে শীতলপানির স্পঞ্জ। একশ বছর আগেও যে জেলিফিশটি ছিল তরুণ আজও সে তার তারুণ্য ধরে রেখেছে। এমনই সব আজব প্রাণী নানা প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মোকাবেলা করে বেঁচে আছে শত শত বছর। 
 
তুয়াতারা: আদিম প্রাণী বলতে আমরা বুঝি ডাইনোসরকে, যারা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বহুকাল আগেই। তারও আগে বাস করত তুয়াতারা। ২০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে তুয়াতারাদের অনেক প্রজাতি ছিল। বর্তমানে মাত্র দুটি প্রজাতি টিকে আছে নিউজিল্যান্ডে। বাকিরা হারিয়ে গেছে প্রকৃতি থেকে। তুয়াতারা পৃথিবীর একটি দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণী। বাঁচে প্রায় ২০০ বছর।
 
রেড সি আর্চিন: গভীর সাগরে বাস করে রেড সি আর্চিন। প্রথমদিকে এরা বাস করত উত্তর আমেরিকার পশ্চিম তীরে। অগভীর জলাশয় থেকে ৯০ মিটার পযর্ন্ত গভীরে এরা বাস করে। সুঁইয়ের মতো কাঁটার সাহায্যে সাগরের তলদেশে হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ায়। এদের কিছু কিছু সদস্য ২৫০ বছরেরও বেশি জীবন পায়।
 
আর্কটিক তিমি: পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির তিমি আছে। নীল তিমি, ব্যালেন তিমি, হ্যামার তিমি, গ্রে তিমি, শুশুক ইত্যাদি। এদের আরেকটি প্রজাতি আছে নাম বো-হেড তিমি। আর্কাটিক সাগরে বাস, তাই বো-হেড তিমিকে আর্কটিক তিমিও বলা হয়। মেরু অন্চলের মানুষ আদিকাল থেকেই জীবনধারণের জন্য শিকারের উপর নির্ভরশীল। মাছ, হাঙর, তিমি ইত্যাদি শিকার করে তারা খাদ্যের প্রয়োজন মেটায়। এক সময় মানুষ প্রাণীর হাড়গোড় দিয়ে নির্মাণ করত অস্ত্র। এ অস্ত্র নিক্ষেপ করে শিকার ধরত। প্রায় ২০০ বছর আগে এমনই অস্ত্র ছুড়ে মারা শিকারির হাত থেকে বেচেঁ যাওয়া একটি আর্কটিক তিমি সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে যা ওই ছুড়ে মারা অস্ত্র শরীরে নিয়ে এখনও বেচেঁ আছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীগুলো
হ্যানাকো কই: দেখে মনে হবে যেন রঙবেরঙের গহনা পরে আছে, যাদের অ্যাকুরিয়ামে রেখে পালন করা যায়। এদের কিছু কিছু প্রজাতি ২০০ বছরের বেশি বাঁচে। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী কেইয়ের নাম ছিল হ্যানাকো। ৭ জুলাই ১৯৭৭ সালে এটি মারা যায়। এর বয়স হয়েছিল ২২৬ বছর।
 
কচ্ছপ: কচ্ছপ এমন একটি প্রাণী যাদের চোয়াল আছে কিন্তু দাঁত নেই। শক্ত খোলসে ঢাকা পিঠ। চাইলে এ খোলরেস মধ্যে এরা হাত পা মুখ সব গুটিয়ে রাখতে পারে। আপদকালীন একমাস না খেয়ে, পানিতে না নেমেও বাঁচতে পারে। ডিম পাড়ে। ঘাস লতাপাতা ফলমূল পোকামাকড় ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে। প্রশান্ত মহাসাগরের তীর ঘেঁষা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে ৯০৬ কিলোমিটার দূরে সাগরের মাঝে জেগে ওঠা দ্বীপ গ্যালাপোগাস। প্রয়াত স্টিভ আরউইন এ দ্বীপে নির্মাণ করেন একটি চিড়িয়াখানা। নানা জাতের কচ্ছপের সঙ্গে এখানে বাস করত এক মজার কচ্ছপ হ্যারিয়েট। বিজ্ঞানীরা তাকে এ নামেই চিনতেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য পযটক আসতেন একে দেখার জন্য। ২০০৬ সালের জুন মাসে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় হ্যারিয়েট। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ১৭৫ বছর। ওই বছর মার্চ মাসে অদ্বৈত নামের আরেকটি কচ্ছপ মারা যায় ২৫০ বছর বয়সে। ধারণা করা হয় তার মৃত্যুর কারণ ছিল বার্ধক্যজনিত।
 
সাগর কাহগ: এর বৈজ্ঞানিক নাম আর্কটিকা আইল্যান্ডিকা। আঠাঁর মতো লেগে থাকে। হামাগুড়িঁ দিয়ে চলে। শক্ত খোলসে ঢাকা শরীর। প্রতিবছর এদের খোলসে একটি করে গোলাকার দাগ পড়ে। একে বলা হয় বার্ষিক চিহ্ন। অনেক গাছের গায়েও এমন দাগ দেখে অনুমান করা যায় তার বয়স কত। গবেষকরা এমন কিছু নমুনা সংগ্রহ করে এদের বয়স অনুমান করে দেখেছেন প্রায় ৪০০ বছর।
 
অ্যান্টার্কটিক স্পঞ্জ: অ্যান্টার্কটিক সাগরের তাপমাত্রা এমনিতেই সব সময় খুবই কম থাকে। ১৫৫০ বছরের পুরনো কিছু স্পঞ্জের সন্ধান পাওয়া গেছে আর্কটিক সাগরে।
 
জেলিফিশ: চিরযৌবন ধরে রাখতে সক্ষম জেলিফিশ। চলতে চলতে একবা পরিণত বয়সে চলে যায় আবার ফিরে আসে শৈশবে। শরীরের এক অংশ ঝেড়ে ফেলে চলে যায় আরেক অংশে। সুতরাং জেলিফিশের বেলায় নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না তার আয়ু কত। সম্ভবত মৃত্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার এক বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছে জেলিফিশ। সাগরে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েই চলেছে। মনে হচ্ছে যেন সারা পৃথিবীতে জেলিফিশ এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে।
 
বিবার্তা/জিয়া
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2020 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com