শামীমা দোলার সাংবাদিক হয়ে ওঠা

শামীমা দোলার সাংবাদিক হয়ে ওঠা
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৬, ১৭:০৭:২৮
শামীমা দোলার সাংবাদিক হয়ে ওঠা
মো. মহসিন হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+
দুষ্টুমি আর খেলাধুলা করে রাজারবাগ পুলিশ লাইন কলোনি, শান্তিনগর আর চামেলীবাগে কেটেছে শিশুকাল। বাবার চাকরির সুবাদে শিশু বয়সে কিছুদিন ঠাকুরগাঁওয়ে কাটলেও ফিরে আসেন রাজারবাগেই। নানা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। তাই রাজারবাগে নানা-নানীর কাছেই কাটে শৈশব। তারপর অনেক ইতিহাস।
 
এখনো ঢাকায়ই বসবাস। তবে পরিসর আগের মতো নয়। সাংবাদিকরা ‘জাতির বিবেক’। তাই সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শামীমা দোলা। কাজ করছেন একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার পদে। সাংবাদিক হিসেবেই কাটাতে চান বাকি জীবন। সোমবার এসেছিলেন কারওয়ানবাজারে বিবার্তা কার্যালয়ে। নিজের শৈশব-কৈশোর নিয়ে গল্প করেন বার্তা সম্পাদক মহসিন হোসেনের সঙ্গে। শামীমা দোলার সে গল্পপ শোনাতেই আজকের এ লেখা।
 
আমি আপনার কোনো সাক্ষাতকার নিচ্ছি না। জানতে চাই জীবনের পুরো সময়টা কীভাবে কাটালেন। কীভাবে আজকের এ অবস্থানে এলেন?
 
সে অনেক কথা। আমার নানা-নানী, দাদা-দাদীর, নাতী-নাতনীদের মধ্যে প্রথম সন্তান আমি। সবার আশা ছিল ছেলে হবে। নানাও সেই আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু আমার জন্মের পর নানা যখন জানলেন মেয়ে হয়েছে, তিনি রাগ করে আমাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন একদিন পর। আমি বড় হয়ে শুনেছি ফরিদা ক্লিনিকে যেদিন আমার জন্ম হয়েছিল নানা সেদিন গরমের মধ্যেও বাসায় কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিলেন।
 
পরে অবশ্য আমিই ছিলাম তার চোখের মনি। নিজের ছেলেমেয়েদের একটু নিয়মের বাইরে যাওয়া না মানলেও, আমার রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়াটাও মেনে নিয়েছিলেন। আমার চরিত্রে নানার জীবনদর্শন, তার কর্মজীবনের সততা, নিয়মানুবর্তিতা, একরোখা স্বভাব আর হঠাৎ রেগে যাওয়া এসবই নানার কাছ থেকে পাওয়া।
 
তারপর থেকে আমি যখন নানার বাসায় বড় হতে থাকি, নানা আমাকে সব সময় ছেলেদের পোশাক পরাতেন। চুল ছোট করে কেটে দিতেন। একবার রাজারবাগে পুলিশদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমরা দুজন মেয়ে, যেমন-খুশি তেমন সেজেছিলাম। আমরা দুজনের একজন হয়েছিলাম কৃষক আর একজন কৃষাণী। তো মাইকে তখন প্রচার করলো, মাঠের পূর্ব প্রান্ত থেকে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে কৃষক-আর কৃষাণী সেজেছে। অর্থাৎ আমি যে মেয়ে সেটা তারা বুঝতে পারেননি। সবাই মনে করেছে আমি ছেলে। আর আমার সঙ্গে যে কৃষাণী সে মেয়ে। সেই থেকে কলোনিতে আমার বন্ধুরা, আমাকে ছেলে বলে ক্ষেপাতো।
 
আমার বাবার চাকরির সুবাদে দেড় বছর ঠাকুরগাঁও ছিলাম আমরা। সেখানে লেখাপড়ার জন্যে প্রথম বাবা-মা চাপ দেন। পরে এসে আবার রাজারবাগ স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হই। আবার নানা-নানীর কাছে থেকে পড়ালেখা শুরু করি। তখন আমাকে ভয় দেখানো হয়েছিল ভর্তি পরীক্ষায় পাস না করলে ভর্তি নেবে না। তাই লেখাপড়ায় মন দিলাম। বইয়ের সূচিপত্র থেকে শুরু করে শেষ পাতা পড়ে শেষ করলাম। পরে অবশ্য আর ভর্তি পরীক্ষা নেয়নি। আমাকে ভয় দেখানোর জন্যই মামা ওই কথা বলেছিলেন।
 
প্রথম শ্রেণি থেকে আমার লেখাপড়া নিয়মিত ছিল না। কিন্তু ৪র্থ শ্রেণির পর থেকে পড়াশুনার প্রতি বেশি মনযোগী হলাম। ৫ম শ্রেণিতে আমার রোল হলো-২। বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পেয়েছিলাম। সেজন্য সম্ভবত স্কুল থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা দিত। এছাড়াও পুলিশ ফান্ড থেকে আরও বৃত্তি পেতাম। বলতে গেলে আমার লেখাপড়ায় একদমই টাকা-পয়সা খরচ হয়নি। প্রায় বিনা খরচেই শেষ করেছি শিক্ষাজীবন।
 
শামীমা দোলার সাংবাদিক হয়ে ওঠা
হাইস্কুল জীবনে কীভাবে সময় কাটাতেন?
 
সিক্স-এ রাজারবাগ স্কুলেই পড়তে লাগলাম। সেভেনে ওঠার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বাইরে যেতে দিতে চাইতো না। আমার বান্ধবীদের সব বাইরে যাওয়া বন্ধ। কিন্তু আমাকে বাসায়  আটকে রাখতে পারতো না। সারাক্ষণ বাইরে ঘুরতেই বেশি ভালো লাগতো। মাঠে খেলাধুলা আর ঘোরাঘুরি খুব ভালো লাগতো। যেহেতু বান্ধবীরা বাইরে খেলতে আসতে পারতো না, তাই আমার থেকে ছোটদের সঙ্গে আমার খেলতে হতো।
 
একবার কলোনির মাঠে বৃষ্টির মধ্যে খেলছিলাম। তখন হঠাৎ পায়ের আঙুলে একটু পিঁপড়ার কামড়ের মতো ব্যথা টের পেলাম। খেলার সময় বুঝতে পারিনি। সন্ধ্যার পরে যখন বাসায় গেলাম তখন পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি পায়ের কনিষ্ট আঙুলটি পা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পা ফুলে মোটা হয়ে গিয়েছিল। আম্মা দেখেতো ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। পরে হলুদ গরম করে ন্যাকড়া দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন। কয়েকদিন পর ভালো হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনাটি আজো আমার মনে পড়ে। কী আশ্চর্য্য রকমের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে রেখেছিল আমার শরীর, আজও ভেবে অবাক হই!
 
একদিন কলোনির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। সামনে দিয়ে রিকশা যাচ্ছে, আসছে। হঠাৎ মনে হলো, রিকশার চাকার নিচে পা দিলে কেমন হয়! ভাবতে ভাবতে একটি রিকশা আসতেই চাকার নিচে পা বাড়িয়ে দিলাম। রিকশাটা আমার পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেল। রিকশাওয়ালা বুঝতে পারেনি যে এটা আমি ইচ্ছা করে করেছি। সে ভয় পেয়ে গিয়েছিল। পায়ে একটু ব্যথা পেয়েছিলাম। তবে তেমন কিছু হয়নি। 
 
আমি ৯ম শ্রেণিতে উঠে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন বিজ্ঞানের কোনো একটি ক্লাস করতে ভালো লাগছিল না। তাই মানবিকের ক্লাসে বসেছিলাম। ক্লাসের এক ছাত্র ম্যাডামের কাছে নালিশ করে বললো, ম্যাডাম ও সাইন্সের ছাত্রী। ম্যাডাম রাগ করে জিজ্ঞাসা করলেন, এই শামীমা তুমি এখানে কেন? আমি এক মুহূর্ত চিন্তা না করেই বলেছিলাম, ম্যাডাম আমি সাইন্সে থাকতে চাচ্ছি না। আর্টস-এ পড়বো। সেই থেকে আর সাইন্সের ক্লাসে যাইনি। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আর্টস-এ চলে আসি। এসব কিছুই আমার শৈশবের দুষ্টুমি বলতে পারেন।
 
এসএসসি রেজাল্ট কেমন হয়েছিল?
 
আমার দুষ্টুমিতে পরিবার, পাড়া, স্কুলের সবাই তটস্থ থাকতো। তবে পার পেয়ে যেতাম শুধু রেজাল্ট ভালো হতো বলে। এক্ষেত্রে আমার সেজ মামা সোহাগের কথা না বললেই নয়। আমার ছোট বড় সব অপরাধ মাফ করে বিপদ আপদে ত্রাণকর্তা হতেন সেই মামা। কলোনি আর স্কুল থেকে নানা অভিযোগে অভিভাবকরা শাসন করতে চাইলে সেই মামা আমাকে রক্ষা করতেন।
 
বরাবরের মতো এসএসসির রেজাল্টও ভালো হয়েছিল। তবে এতো ভাল হবে, তা অনেকের মতো আমিও আশা করিনি। ৭০০ এর মত মার্কস পেয়ে পাস করেছিলাম। এসএসসির পরেও আমার দুষ্টুমি থেমে যায়নি। আমার যে মার্কস ছিল তাতে ভিকারুননিসায় ভর্তিতে পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু বান্ধবীদের সাহায্য করার জন্য দুইটি কলেজ সিদ্ধেশ্বরী গালর্স কলেজ আর মতিঝিল আইডিয়াল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেই। মতিঝিল আইডিয়ালে ভর্তি পরীক্ষায় আমি দ্বিতীয় হয়েছিলাম।
 
এদিকে ভিকারুননিসায় ভর্তির সময় পার হয়ে যায়। এরপর ভর্তি হই আইডিয়াল কলেজে। সেখানেও বেশিদিন পড়া হয়নি। মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন ক্লাস করেছিলাম। লাইব্রেরিতে বসে তিন গোয়েন্দা সিরিজের বই পড়ার জন্য ডায়রিতে লিখে দেয় পরবর্তী ক্লাসে অভিভাবক নিয়ে আসতে হবে। এজন্য ভয়ে আর সেই কলেজমুখো হইনি। পরে সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ভর্তি হই। সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ২ বছর আমার তেমন মজায় কাটেনি। সব বান্ধবী ভর্তি হয়েছিল আইডিয়ালে। আমি একা সিদ্ধেশ্বরীতে। এখানের দুই বছর শুধু ক্লাস-বাসা। এভাবেই সময় কেটেছে। তেমন কোনো বান্ধবীও সেখানে হয়নি।
 
কলেজ আর স্কুল, ওই সময়ে যারা আপনার বেশি ক্লোজ বান্ধবী ছিলো তাদের সম্পর্কে কিছু বলেন।
 
আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবীদের মধ্যে বাবুনী, বন্যা, শেলি, এলিস, অনু আর বেবীর কথা মনে আছে। এর মধ্যে এলিস আর অনু এখন আমেরিকায় থাকে। বেবী ক্যান্টমেন্টের একটি কলেজে, শেলি ব্র্যাকে, বন্যা একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। মজার ব্যাপার হলো আমার বান্ধবী যারা দেশে বা ঢাকায় আছে, তাদের সঙ্গে যতটা না যোগাযোগ হয়, তার চেয়ে বেশি যোগাযোগ হয় বিদেশে যারা আছে তাদের সঙ্গে।
 
এইচএসসি পাসের পরের ঘটনা যদি বলতেন...
 
এসএসসির মতো এইচএসসির রেজাল্ট ভালো হয় আমার। শুধু আমার না। আমাদের ব্যাচের সবার। এরপর ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিই। ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় আমাদের সিট পড়েছিল অগ্রণী স্কুলে। আমরা চার বান্ধবী পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পরে পরিক্ষা হলে পৌঁছাই। এই দেরির জন্যে আমার দুষ্টু  বুদ্ধিই দায়ী। আমাদের প্রথমে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দিতে চায়নি। অনুরোধ করে পরীক্ষায় অংশ নিই। চার জনের মধ্যে সেবার  আমি একাই ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও হলে থাকা হয়নি। কারণ বাসাতো ঢাকায়। এরই মধ্যে নানাও পুলিশের  চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। আমি আব্বার সঙ্গে শান্তিবাগে থাকি। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে যেতাম।
 
স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মধ্যে কী পার্থক্য বলে মনে করেন?
 
হ্যাঁ, স্কুল কলেজে পড়ালেখা আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য। স্কুল-কলেজের জীবন হলো একটা খাঁচার মধ্যে বড় হওয়া। যদিও খাঁচায় বন্দি আমি থাকতাম না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মানে একটা বড় ধরণের স্বাধীনতা হাতে পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টা আসলেই মজার একটা সময় ছিল। ভর্তির পরে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। প্রথমে টিএসসি কেন্দ্রিক স্রোত আবৃতি সংগঠন নামে একটি কালচারাল সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হই। পরে ছাত্রলীগ করা শুরু।
 
৯৬ সালে বই মেলা উদ্বোধন করতে খালেদা জিয়া ক্যাম্পাসে আসবেন। তখন ক্যাম্পাসে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন। আমি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পুলিশ অনেককে পিটিয়ে আহত করে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল হয়েছিল। সেই মিছিলে যোগ দেয়াই ছিল আমার জীবনের প্রথম মিছিল। তখন থেকে মূলত ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেই। এরপর ওই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি একটি একতরফা নির্বাচন করেছিল। আমরা সেই নির্বাচনের বিরোধীতা করে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হই।
 
প্রথমে আমি ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য ছিলাম। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক হয়েছিলাম। ২০০১ সালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের হামলার শিকার হয়ে বাসা পর্যন্ত বদলাতে হয়েছিল। ২০০৬ সাল থেকে আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেই।
 
শৈশব-কৈশোর-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্পতো শুনলাম, এবার কর্মজীবন নিয়ে কিছু বলুন।
 
আমার চাকরি জীবন শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে নয়। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কয়েক মাস করে কাজ করে ২০০৬ সালে সাংবাদিকতা শুরু করি। এখনো সাংবাদিকতা পেশায়ই আছি। এই পেশাটাকে আমি উপভোগ করি। ২০০৬ সালে নাইমুল ইসলাম খানের পত্রিকায় প্রথম ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কে কাজ শুরু করি। এরপর রিপোর্টিংয়ে চলে আসি। রেডিও আমার, এবিসি রেডিও, বৈশাখী টেলিভিশন হয়ে ২০১২ সালে একাত্তর টিভির সাথে যুক্ত হই। বর্তমানে একাত্তর টিভিতে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে অর্থনীতি বিটে কাজ করছি।
 
আমাদের দেশের সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু বলুন।
 
আমাদের দেশে সাংবাদিকদের আরো বেশি প্রশিক্ষণ দরকার। আর যারা সাংবাদিকতা করছেন, তাদের বেশি বেশি পড়াশুনার কোনো বিকল্প নেই।
 
সাংবাদিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে কিছু বলবেন কী?
 
বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আর্থিক অবস্থার জায়গাটা এখনও সন্তোষজনক নয়। হাতেগোনা কয়েকটা পত্রিকা ছাড়া বেশিরভাগ মিডিয়ায় যারা কাজ করেন তারা ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন পান না। কয়েকটি টিভি চ্যানেল রেগুলার বেতন দেয়, কিন্তু বাকিরা কোনো আইনের মধ্যে নেই। আমাদের দেশের মিডিয়া ভারতের মিডিয়ার চেয়েও খারাপ অবস্থায়। একজন সাংবাদিক অসুস্থ হলে তার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবের স্মরণাপন্ন হতে হয়। এটা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। এজন্যে একটি ফান্ড থাকা দরকার। এমনকি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে, যারা সাংবাদিকদের দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়াবে।
 
অনলাইন পত্রিকার বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
 
দেশে বলতে গেলে এখন অনলাইনের ছড়াছড়ি। এটা মিডিয়ার জন্য ভালো। অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কিন্তু একটা নীতিমালার মধ্যে থাকা দরকার। যে যেভাবে পারছে অনলাইন পোর্টাল খুলে তাতে যা ইচ্ছা তাই লিখছে, আমি এটার পক্ষে নই। সত্যিকারের সাংবাদিকতা বলতে যা বুঝায়, সেটা করার জন্যই অনলাইন নীতিমালা দরকার।
 
কী করতে বেশি ভালোবাসেন?
 
সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি গান শুনতে। আর দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া, তাদের সম্পর্কে জানার একটা কৌতূহল আমার ভেতরে কাজ করে। ইতোমধ্যে অনেক দেশে ঘুরেছি। ভবিষ্যতেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এছাড়া আড্ডা দিতে আমি খুব বেশি ভালোবাসি। অবসরে পত্রিকা পড়ি, টেলিভিশন দেখি আর গানশুনি।
 
বিবার্তার পাঠকদের জন্য কিছু বলার আছে কী?
 
আমি বলতে চাই, নিজেকে সম্মান করুন, নিজের কাজকে ভালোবাসুন। কাজটিকে উপভোগ করুন। ভালোবাসতে না পারলে প্লিজ কাজটি ছেড়ে দিন। বিরক্তি নিয়ে কোনা কাজ করা উচিত নয়। আর আমি ঘৃণা করি দ্বৈত নীতি। মুখে এক, আর অন্তরে আরেক ধরনের চিন্তা-চেতনা  ঠিক নয়। এ ধরনের কাজ আমার খুবই অপছন্দ। আমি মনে করি নিজে যেটা বিশ্বাস করি, সেটাই করা উচিত।
 
বিবার্তা/মহসিন/কাফী   
 
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১১৯২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com